সাধন মন্ডল, বাঁকুড়া: শুক্লা একাদশীতে সারা রাজ্যের সাথে সাথে জঙ্গলমহলের রায়পুর বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে কুড়মি জনজাতির জাতীয় উৎসব করম পরব।

সকাল থেকেই বিরতি থাকা কুমারী মেয়ে ও ছেলেরা উপোস করে রয়েছেন সন্ধ্যায় পরম ডাল নিয়ে জনজাতির লায়া একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সেই করম ডালকে স্থাপন করেন। এরপর সেখানে কয়েকদিন আগে নির্দিষ্ট নিয়মে জাওয়া ডালিতে রাখা দানাশস্য গুলি অঙ্কুরিত ও চারা গাছ বের হওয়া জাওয়া ডালিগুলি গরম ডালের চারপাশে সারিবদ্ধ ভাবে রাখা হয় এবং সারিবদ্ধ ভাবে বারতীরা পুজোয় বসেন। তাদের নির্দিষ্ট নিয়মের পূজো করান উপস্থিত লায়া।

এখানে উল্লেখ্য যে জাওয়া ডালি গুলি প্রথম দিন দানাশষ্যে পূর্ণ করা হয়েছিল সেগুলি সাত দিন ধরে বারতিরা স্নান করে শুদ্ধাচারে হলুদ জল দিয়ে পুজো করতো। আজ সেই জাওয়া ডালি নিয়ে করম থানে এসে সারারাত ধরে পুজোপাঠে ও করম গানের মধ্য দিয়ে আগামীকাল ভোরে করম পূজা সমাপ্তি হবে। এবং বারতিরা পান্তা ভাত খেয়ে তাদের ব্রত ভঙ্গ করবেন।

রায়পুর গরম পরক কমিটির উদ্যোগে আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় সেই করম ডাল ও জাওয়া ডালি নিয়ে কুড়মি জনজাতির মানুষজন শোভাযাত্রা সহকারে রায়পুর বাজার পরিক্রমা করে সবুজ বাজার ট্রেকার রেন্ডি এসে তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় করম থানে পুজো শুরু করেন।

আজকের এই পরম পূজো উপলক্ষে তাদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। সারা রাত ধরে চলবে গান-বাজনার আসর। করম পুজো সম্পর্কে আমাদের জানালেন রায়পুরের বিশিষ্ট চিকিৎসক করম পূজা কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা ডাক্তার বৈদ্যনাথ মাহাতো।

করম পুজো কে কেন্দ্র করে যে সমস্ত বিশিষ্ট গুণীজনরা উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাগবীর মাহাতো, ডাক্তার বৈদ্যনাথ মাহাতো বিশিষ্ট সমাজসেবী পরিমল মাহাতো, গণেশ মাহাতো, দেবাশীষ মাহাতো ,পিন্টু মাহাতো। পীযূষ মাহাতো, পার্থ মাহাতো, প্রমূখ। তারা বলেন, এই উৎসব আমাদের আদি উৎসব এবং ভারতীয় সংস্কৃতির কৃষি সৃষ্টির মূল উৎসব হল এই করম উৎসব।