নিজস্ব সংবাদদাতা : মধ্যপ্রদেশের ব্যাওরার অজনার নদী পরিষ্কার করতে ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে কাজ শুরু করে সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী, যাকে সমাজমাধ্যমে সবাই ‘বিট্টু তবাহী’ নামে চেনে। দিনের পর দিন নিজের হাতে প্লাস্টিক, বোতল, শ্যাওলা এবং জমে থাকা আবর্জনা তুলে নদীর চেহারা বদলাতে থাকে বিট্টু। এই কাজ করতে গিয়ে নিজের প্রায় ৩০,০০০ টাকা খরচ করার পাশাপাশি দূষিত জলের কারণে ত্বকের সমস্যারও মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে। কিন্তু সেখানেই গল্প থামেনি। তার কাজের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশংসা আসে আনন্দ মাহিন্দ্রা এবং কেভিন পিটারসনের কাছ থেকে। পরে ‘দ্য ওশান ক্লিনআপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা বয়ান স্ল্যাট তাকে সরাসরি তাঁদের সঙ্গে কাজ করার আমন্ত্রণ জানান।
২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি, প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন অজনার নদীতে নেমে পরিষ্কারের কাজ শুরু করে বিট্টু। নদীর নোংরা জলে নেমে নিজের হাতেই প্লাস্টিকের ব্যাগ, বোতল, শ্যাওলা এবং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা তুলে আনতে থাকে। এই উদ্যোগে নিজের পকেট থেকেও প্রায় ৩০,০০০ টাকা খরচ করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নদী পরিষ্কারের আগে ও পরের ছবি এবং ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিট্টুর কাজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের নজরে আসে। শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রা তাঁর কাজের প্রশংসা করেন এবং তাঁর উদ্যোগকে সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেন। ক্রিকেটার কেভিন পিটারসনও বিট্টুর কাজের প্রশংসা করেন। ব্যাওরার একটি নদী পরিষ্কার করার ব্যক্তিগত উদ্যোগ তখন ধীরে ধীরে জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
এরপর আসে আরও বড় স্বীকৃতি। নেদারল্যান্ডসের পরিবেশকেন্দ্রিক সংস্থা ‘দ্য ওশান ক্লিনআপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বয়ান স্ল্যাট সমাজমাধ্যমে বিট্টুর নদী পরিষ্কারের ছবি দেখতে পান। নদী ও সমুদ্র থেকে প্লাস্টিক দূষণ কমানোর জন্য কাজ করা এই আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান বিট্টুর কাজ দেখে তাঁকে সরাসরি তাঁদের সঙ্গে কাজ করার আমন্ত্রণ জানান। তাঁর বার্তা ছিল, “কাম ওয়ার্ক ফর আস”—অর্থাৎ, “আমাদের সঙ্গে কাজ করো।” এর মধ্যেই মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গেও দেখা হয় বিট্টুর। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং জানান, তাঁর এই কাজ রাজ্যের অন্য তরুণদেরও পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করতে পারে।