মোল্লা জসিমউদ্দিন, সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ কলকাতা হাইকোর্টের প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং আইনজীবী ফিরদৌস শামিম, বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায়দের চেম্বার ঘেরাও ও হেনস্থার ঘটনায় পদক্ষেপ নিল । এই মামলার জেরে তৃণমূল নেতা বর্তমান বিধায়ক কুণাল ঘোষ-সহ জড়িতদের আর্থিক জরিমানা করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের সমন্বয়ে গঠিত ৩ বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ কুণাল ঘোষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত সুত্রে জানা গেছে, এসএসসির শারীরশিক্ষা এবং কর্মশিক্ষা বিষয়ে সুপারনিউমেরারি বা অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করে নিয়োগের ক্ষেত্রে বেনিয়মের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। সেই মামলায় চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের বিরুদ্ধে আদালতে তীব্র সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। মামলার শুনানির সময় বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন যে, -'সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো সিবিআই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, কার নির্দেশে এই অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করা হল তা রাজ্যকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।'এই নির্দেশের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন উচ্চ প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও হাইকোর্টে নিয়োগ মামলার অগ্রগতি কেন হচ্ছে না? এই প্রশ্ন তুলে সন্ধেবেলায় বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের চেম্বারের বাইরে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। এমনকি বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর সঙ্গে প্রবীণ আইনজীবীর 'আঁতাঁত' রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।আইনজীবীদের চেম্বার ঘেরাও এবং হেনস্থার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের গরিমা ও আইনজীবীদের নিরাপত্তার স্বার্থে হাইকোর্টের তরফে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে গঠন করা হয় তিন বিচারপতির স্পেশ্যাল বেঞ্চ। এই ঘেরাও ও হেনস্থার ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন হাইকোর্টের আইনজীবীদের একটি বড় অংশও।
আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও ফিরদৌস শামিমের নেতৃত্বে আদালত চত্বরে পাল্টা মিছিলও করেন আইনজীবীরা। আইনজীবী হেনস্থার এই গোটা ঘটনায় এবার কুণাল ঘোষ-সহ অভিযুক্তদের ২০০০ টাকা করে জরিমানা করল হাইকোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ।