সাধন মন্ডল, বাঁকুড়া : প্রায় সাড়ে 300 বছরের ইতিহাস। রাইপুরের চাঁন্দু ডাঙ্গা গ্রামের মহামায়া । কথিত আছে মল্ল রাজাদের আমলে রাইপুরে মা মহামায়া মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। ইতিহাস ঘাটলে জানা যায় রাজ পরিবারের রাজা হিসেবে হরিপদ সিংহদেব কিন্তু যেহেতু হরিহর গঞ্জগড় রাজ পরিবারের বর্তমান বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য গোপীনাথ সিংহ দেব তাই তিনি রাজা নামে পরিচিত।

গোপীনাথ বাবু বলেন চুয়াড় বিদ্রোহের নেতা দুর্জন সিংহের বাবা মা মহামায়ার স্বপ্ন পেয়ে চাঁন্দু ডাঙ্গা গ্রামের ঝোড় জঙ্গল থেকে মায়ের পাষাণ মূর্তি উদ্ধার করেন এবং মাকে প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে পুজো হয়ে আসছে চাঁদু ডাঙ্গা গ্রামে। এলাকায় তিনিই মা দুর্গা। কথিত আছে অতীতে মহামায়া মন্দির কে ঘিরে পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে কোনরকম মূর্তি পূজা করা যাবে না এটাই ছিল তৎকালীন দিনের রীতি ও নিয়ম। বর্তমানে সেই নিয়ম আর নেই পাশাপাশি রাইপুর বাজারসহ অন্যান্য জায়গায় দুর্গার মূর্তি পূজা হচ্ছে। 
আজ থেকে ৩০ বছর আগে রাইপুর বাজারে প্রথম মাটির দুর্গা মূর্তি তৈরি করে পুজো শুরু হয়। যাইহোক দুর্গাপূজার ষষ্ঠীর দিন হরিহর গঞ্জগড় রাজবাড়ী থেকে রাজ পরিবারের কূলদেবী মা রাজলক্ষ্মীকে শোভাযাত্রা সহকারে চাঁন্দু ডাঙ্গা গ্রামের মা মহামায়া মন্দির নিয়ে আসা হয়। আবার দশমীর দিন দশমীর পুজো শেষে ঘট বিসর্জন এর পর মাকে আবার শোভাযাত্রা সহকারে মহামায়া মন্দির থেকে রাজবাড়ীতে ফিরিয়ে আনা হয়। এলাকার কুড়ি থেকে ত্রিশটি গ্রামের মানুষ রাস্তার দুপাশে ভিড় করেন মায়ের এই ফিরে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় যাতে কোন রকম বিশৃংখলা না হয় তার জন্য বাঁকুড়া জেলা পুলিশের রাইপুর থানা পুলিশ সতর্ক থাকেন এবং যথেষ্ট পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন থাকেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি মহিলা পুলিশের সংখ্যা বেশি রয়েছে কারণ এই শোভাযাত্রায় মহিলাদের ভিড় থাকে সব চেয়ে বেশি।। হরিহর গঞ্জগড় থেকে মহামায়া মন্দির প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা এই পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পাঁচ ঘন্টারও বেশি সময় লাগে। মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে এই শোভাযাত্রায়। শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই অংশ নেন শোভাযাত্রায়।