সাধন মন্ডল, বাঁকুড়া : বাঁদনা পরব উপলক্ষে আগামী ১২ নভেম্বর রাইপুরে আসার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।তার সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে কুড়মি সমাজের নেতাদের মধ্যে। মুখ্যমন্ত্রীর সভার জন্য উপযুক্ত মাঠের সন্ধানে রবিবার বিরসামুন্ডা মেমোরিয়াল কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেন রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু, রাইপুর ব্লক বাঁদনা পরব কমিটির সভাপতি তথা কুড়মি সমাজের নেতা পরিমল মাহাত, কমিটির উপদেষ্টা তথা কুড়মি সমাজের নেতা সঞ্জয় মাহাত, কৃষ্ণপদ মাহাতো সহ কুড়মি সমাজের অন্যান্য নেতৃত্বরা। বাঁদনা পরব শুধু একটি উৎসব নয়, জঙ্গলমহলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও সামাজিক মিলনের অন্যতম উৎসব। কার্তিকের অমাবস্যার আগের দিন থেকে শুরু এই পরবকে কেন্দ্র করে গরুকে বরণ করা, কৃষি যন্ত্রপাতি পুজো, গোয়ালে গরু জাগরণ, গরুর বিয়ে, বিশেষ পিঠে তৈরি, কাড়া ও গরু খুঁটান সহ নানা লোকাচার পালিত হয়। আদিবাসী ও কুড়মি সমাজ সহ এলাকার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ উৎসবে শামিল হন। সেই পরবেই মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত থাকাকে ঘিরে উৎসাহ তৈরি হয়েছে স্থানীয় কুড়মি সমাজের মানুষজন থেকে শুরু করে আদিবাসী সমাজের মানুষজনদের মধ্যে।
রাইপুর ব্লক বাঁদনা পরব কমিটির সভাপতি তথা কুড়মি সমাজের নেতা পরিমল মাহাতোর দাবি, কমিটির তরফে বাঁদনা পরবে মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি রাইপুরে আসতে সম্মত হয়েছেন। তার সফরকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। সে কথা মাথায় রেখেই সভার জন্য বড় মাঠ বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিন ধরে বাঁদনা পরব পালিত হয়। সমাবেশে বাঁদনা পরবের বিভিন্ন সংস্কৃতি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হবে।
কমিটির উপদেষ্টা তথা কুড়মি সমাজের নেতা সঞ্জয় মাহাতো বলেন, মাঠ পরিদর্শনের পর প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিরসামুন্ডা মেমোরিয়াল কলেজের মাঠেই সভা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দল-মত-জাতি নির্বিশেষে জঙ্গলমহলের আপামর মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর সমাবেশে যোগ দেবেন। বাঁদনা পরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন বুড়ি বাঁদনা, অর্থাৎ আগামী ১২ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী আসবেন। আমরা কৃষিনির্ভর মানুষ। কৃষির সঙ্গে গরুর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। গরুর প্রতি সম্মান কৃতজ্ঞতা জানানোর ঐতিহ্য বাঁদনা পরবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সমাবেশে জঙ্গলমহলের ওই নিজস্ব সংস্কৃতি ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি বাঁদনা পরবের অন্যতম আকর্ষণ কাড়া ও গরু খুঁটানোর মতো ঐতিহ্যবাহী লোকাচারও প্রদর্শিত হবে।
মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, আগামী ১২ তারিখ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাইপুরে আসছেন। সেই জন্য কুড়মি সমাজের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা আপাতত দুটি মাঠ পরিদর্শন করেছি। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা এসে মাঠ দেখবেন। তার পর যে মাঠ চূড়ান্ত হবে, সেখানেই সভা হবে। বাঁদনা পরবের সঙ্গে জঙ্গলমহলের মানুষের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই পরব আদিবাসী ও কুড়মি সমাজ সহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষের মিলনোৎসব। মুখ্যমন্ত্রীকে এই উৎসবে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই আমন্ত্রণে সম্মতি মেলায় উদ্যোক্তারা খুশি।