সৌমী মন্ডল, বাঁকুড়া: আজ বৃহস্পতিবার তালডাংরা গ্রামীণ হাসপাতালের উদ্যোগে হাসপাতাল প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হলো স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির।রক্তদান শিবিরের মাধ্যমে সংগৃহীত হলো ৬৬ ইউনিট রক্ত। হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা, তালডাংরা থানার পুলিশ কর্মকর্তা এবং বিএলএন্ডএলআরও (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) অফিসের কর্মকর্তারাও সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।
তালডাংরা গ্রামীণ হাসপাতালের বিএমওএইচ ডা. দিব্যমন চ্যাটার্জীর নেতৃত্বে এই শিবিরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই শিবিরের উদ্দেশ্য ছিল বাঁকুড়া ব্লাড ব্যাংকের রক্তের ঘাটতি মেটানো এবং থ্যালাসেমিয়া রোগী ও অন্যান্য অভাবী রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত রক্তের সরবরাহ নিশ্চিত করা আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। শিবিরে যে ৬৬ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী ১৬ জন মহিলা রয়েছেন। এই শিবিরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো বেশিরভাগ রক্তদাতা বিশেষ করে মহিলারা, প্রথমবারের রক্তদান করলেন। এই প্রথমবার রক্তদানকারীদের উৎসাহ অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে উদ্যোক্তা দের পক্ষ থেকে জানানো হয়
শিবিরে রক্তদানের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার বার্তাও দেওয়া হয়। প্রত্যেক রক্তদাতাকে স্মারক হিসেবে একটি চারাগাছ উপহার দেওয়া হয়, যাতে রক্তদানের সাথে সাথে সমাজে সবুজায়ন বৃদ্ধির বার্তাও পৌঁছে দেওয়া যায়।
বিএমওএইচ- ডাঃ দিব্যমন চ্যাটার্জী বলেন, "রক্তদান হলো সর্বশ্রেষ্ঠ মানবিক কাজ, যা একজন অচেনা ব্যক্তিকে নতুন জীবন দান করে। এটা দেখে আনন্দ হচ্ছে যে, আরও বেশি সংখ্যক মানুষ, বিশেষ করে যুবক ও মহিলারা, এই শিবিরে যোগ দিয়েছেন। রক্তদানের পাশাপাশি চারাগাছ রোপণের বার্তাটি প্রমাণ করে যে, মানব জীবন এবং পরিবেশ উভয়কে রক্ষা করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। আগামী দিনগুলিতে, হাসপাতাল একটি সুস্থ ও সচেতন সমাজ গঠনে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে নিয়মিতভাবে রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য সচেতনতা অভিযান, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনকল্যাণ সম্পর্কিত বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করবে।"আজকের হাসপাতালে এই রক্তদান শিবির কে ঘিরে এলাকার মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর পরিবার পরিজন সকলেই সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন।
হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সিং স্টাফ, স্বাস্থ্যকর্মী, তালডাংড়া পুলিশ, বিএলএন্ডএলআরও অফিস, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং স্থানীয় নাগরিকরা এই শিবিরের সফল আয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে বিপুল সংখ্যক মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদান করে এই মানবিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবেন।