সাধন মন্ডল, বাঁকুড়া: জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে রানিবাঁ ধ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালনায় চলছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রক্ত পরীক্ষা ও সচেতনতা শিবির।
এক মাসের মধ্যে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত দুজনই শবর সম্প্রদায়ের। এরপরই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তৎপর হয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। জঙ্গলমহলের রানিবাঁধ ব্লকের রুদড়া পঞ্চায়েতের কুল্যাম গ্রামের শবরপাড়া, আদিবাসীপাড়া, কেন্দডাঙা সহ প্রায় সাতটি
পাড়ায় চলছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের কাজ। জন গণনার নিরিখে প্রায় দেড় হাজার মানুষের রক্ত পরীক্ষা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে স্বাস্থ্য স্তর সূত্রে জানা যায়। গত তিন দিন ধরে গ্রামে শিবির করে ওই নমুনা সংগ্রহ করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এখন নতুন করে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি তবে কয়েকজনের জ্বর রয়েছে তাদের ওষুধ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ও রানিবাঁধ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে রানিবাঁধ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর সম্প্রতি একই উপসর্গ নিয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়। দুজনেই কুল্যাম গ্রামের শবরপাড়ার বাসিন্দা । এরপরেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রক্ত পরীক্ষার পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের সচেতন করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
কুল্যাম গ্রামের বাসিন্দা লক্ষ্মীমণি সরেন , মহাদেব সরেন, রবিলোচন সরেন, ভাবি নি শবর রা বলেন, ম্যালেরিয়ায় দুজন মারা যাওয়ার পর আমরা একটু আতঙ্কিত হয়ে পড়ি তবে তারপর থেকেই স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকেরা গ্রামে আসছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন রক্তের নমুনা সংগ্রহ করছেন। ম্যালেরিয়া নিয়ে আমাদের বিভিন্ন ভাবে সচেতন করা হচ্ছে। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখতে এবং মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে বলা হয়েছে। তাদের অভিযোগ আমাদের এই জঙ্গলঘেরা গ্রাম গুলিতে প্রতিবছরেই ম্যালেরিয়া দেখা দেয়। স্বাস্থ্য দপ্তর সেভাবে সচেতনতার বার্তা দেন না। সারা বছর এই ধরনের তৎপরতা দেখা যায় না বলেও তারা দাবি করেন। যদি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতা বার্তা থাকত তাহলে হয়তো আমাদের এই দুজন মারা যেত না।
রানিবাঁধ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আধিকারিক বলেন, মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো এবং বাড়ির আশপাশে জল জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা জল এবং আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখার বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে কুল্যাম গ্রামের কেউ জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি নেই। পাঁচ দিন ধরে গ্রামে শিবির করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং রক্তের নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরাও গ্রামে এসেছিলেন। প্রতিটি বাড়ির ভিতরের বিভিন্ন কোণায় বিশেষ ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে।
কুল্যাম গ্রামের পাশাপাশি রানিবাঁধ ব্লকের আরও কয়েকটি গ্রামেও গত বছর ম্যালেরিয়া ধরা পড়েছিল। সেই সব গ্রামেও শিবির করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে চলতি বছরে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম। ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গি নিয়ে সারা বছরই স্বাস্থ্য দফতরের তরফে গ্রামে গ্রামে সচেতনতা প্রচার চালানো হয়। এলাকাবাসী একটু সচেতন হলে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে বলে তিনি মনে করেন