আবুল কায়েম, পূর্ব বর্ধমান জেলার জেলা শিক্ষা পরিদর্শক ড. প্রলয়েন্দু ভৌমিক মহাশয়ের পৌরহিত্যে ইছাবটগ্রাম অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো মূল্যবোধের শিক্ষা বিষয়ক একটি কর্মশালা। প্রায় ১০৫ জন শিক্ষার্থী আর ৬৫ জন অভিভাবক, অভিভাবিকার উপস্থিতিতে এই মহতী অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হয়েছে। প্রায় পৌনে দুঘন্টার এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয় মুখ্য ও বিশিষ্ট অতিথিগণের মঙ্গল দ্বীপ প্রজ্জ্বলনের আলোকিত অধ্যায় দিয়ে। তারপর ভারত মাতার প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন ডি.আই মহাশয়। রাষ্ট্রিয় গীত বন্দেমাতরম সঙ্গীতে কচি-কাঁচাদের কণ্ঠ ভরে উঠলো।
পূর্ব বর্ধমান জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক ড. প্রলয়েন্দু ভৌমিক শিশুদের মতো করে মূল্যবোধের বোধ তুলে ধরলেন আন্তরিকভাবে। জেলার সর্বস্তরে এই প্রচেষ্টা যাতে হয়, সেবিষয়ে উনি নজর রাখার কথা বললেন।সহকারি বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রিয়ব্রত মুখার্জী মহাশয় তুলে ধরলেন আচরণের দিকটি, যে বক্তব্যের মূল সুর ছিল- "আপনি আচরি ধর্ম অপরে শেখাও।" মঙ্গলকোটের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অনির্বাণ মিত্র মহাশয় মূলত মায়েদের এগিয়ে আসবার ডাক দিলেন। এও বললেন, ব্লক স্তরে এই মূল্যবোধের শিক্ষা বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ে প্রসারের চেষ্টা করবেন।মাজিগ্রাম বিশ্বেশ্বরী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষক সুমন দাস মূল্যবোধ কী ও কেন- সেই বিষয়ে আলোকপাত করলেন। মঙ্গলকোটের জাতীয় শ্রীখোল-শিল্পী নদীয়া নন্দন বৈরাগ্য ও সঙ্গীত শিল্পী মানস মুখার্জীর দ্বৈত উপস্থাপনায় বেজে উঠলো গান- "সব কাজে হাত লাগাই মোরা সব কাজে"।
বিদ্যালয়ের ছাত্রী ঋতশ্রী সরকারের নৃত্য উপস্থাপনের পরেই প্রধান শিক্ষক সৌরভ বাহড়া মহাশয়ের মূল্যবান বক্তব্যে উঠে এলো সবাইকে নিয়ে চলবার সুর। সাথে ইছাবটগ্রামের কোন এক প্রবীন বিদ্যালয়ের নামে ভূমিদানে আগ্রহী, এই বার্তাটিও দিলেন। জাতীয় সঙ্গীতের সমবেত সুরে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি। তারপর শিক্ষার্থীদের জন্য ছিলো, আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্ন আহারের আয়োজন। মুগডাল, পোস্ত, পণির থেকে চাটনি, দই, মিষ্টি সবটাই শিশুরা আনন্দের সাথে খেয়েছে। প্রায় দুটো নাগাদ শিক্ষার্থীরা বাড়ির পথে পা বাড়ায়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক-আধিকারিকগণের চতুর্ভুজ এই মিল মেলার মূল সুর ছিল- "সকলের তরে সকলে আমরা/ প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।"