সংবাদ ভারত ওয়েব ডেস্ক : নেপালের সিয়াফ্রুবেশি থেকে চিনা সীমান্তের ইমিগ্রেশন পয়েন্টের দিকে পাহাড়ি পথে আচমকা নেমে এসেছিল জল, কাদা আর পাথরের স্রোত। কৈলাস-মানস সরোবরের পথে থাকা ৫৭ জন তীর্থযাত্রীর একটি দল মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়ে। এরই মধ্যে, অনেকেই বারবার পিছলে নিচে পড়ছিলেন। তখন দলের এক মহিলার শাড়ি হয়ে ওঠে অস্থায়ী দড়ি। উপরে পৌঁছে তিনি শাড়ি খুলে নিচের দিকে নামিয়ে দেন। সেই শাড়ি এবং একটি কেবল ধরে একে একে ২১ জন উপরে উঠতে সক্ষম হন। পরে সামরিক হেলিকপ্টারে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

এক মহিলা, পুঙ্গোদি, কোনওভাবে ঢালের উপরের অংশে পৌঁছে যান। তিনি নিজের সোয়েটার পরে নেন, তারপর শাড়ি খুলে নিচের দিকে নামিয়ে দেন। নিচে থাকা যাত্রীরা শাড়ির কাপড় শক্ত করে ধরেন। একই সঙ্গে সেখানে থাকা একটি কেবলও আঁকড়ে ধরেন তাঁরা। একজনের পর একজন সেই দুই অবলম্বন ব্যবহার করে পিচ্ছিল ঢাল বেয়ে উপরে উঠতে থাকেন। অর্থাৎ শাড়িটি একা ২১ জনকে টেনে তোলেনি; কেবল, শাড়ি এবং নিজেদের পারস্পরিক সাহায্য মিলিয়েই তৈরি হয়েছিল সেই অস্থায়ী উদ্ধারব্যবস্থা।
অবশেষে সামরিক হেলিকপ্টারে তাঁদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। তামিলনাড়ু সরকারের হিসাবে, নেপালে যাওয়া ৪০০-র বেশি তামিল তীর্থযাত্রীর মধ্যে প্রায় ৯০ জনের সঙ্গে সেই সময় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ২১ জনের ফিরে আসা তাই শুধু একটি উদ্ধারকাহিনি নয়; ধ্বংসস্তূপে হারিয়ে যাওয়া বহু মানুষের খোঁজের মধ্যেও এটি ছিল এক বিরল বেঁচে ফেরার ঘটনা।