উত্তর ২৪ পরগণা : প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং শিক্ষিকাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন উত্তর ২৪ পরগনার কাঁকিনাড়ার রথতলা রাজলক্ষ্মী বালিকা বিদ্যামন্দিরের শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের একাংশ। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা নাগাদ বিদ্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ ও জমায়েতকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়।
অভিযোগকারী শিক্ষিকাদের দাবি, ২০১৪ সালে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষিকা শ্রীমতী চৈতালী সরকারের বিরুদ্ধে। এর আগে ২০১৫ ও ২০১৯ সালেও ম্যানেজিং কমিটি, ব্যারাকপুর ডিআই অফিস এবং শিক্ষা দফতরে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছিল বলে দাবি তাঁদের। তবে অভিযোগ, সেই সময় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিনের বিক্ষোভে মূলত বিদ্যালয়ের আর্থিক হিসাব স্বচ্ছ করার দাবি তোলা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, মিড ডে মিল ও বিভিন্ন তহবিলের হিসাব নিয়ে প্রায় ১১-১২ লক্ষ টাকার অনিয়ম বা ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত ফি-এর তুলনায় বেশি অ্যাডমিশন ফি নেওয়া, দশম শ্রেণির ছাত্রীদের ফর্ম ফিল-আপের চেকলিস্টে সই এবং অনুপস্থিতির জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ারও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি গ্র্যান্টের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ না করা, বিভিন্ন ফান্ডের অর্থ নিয়ে অস্পষ্টতা এবং জমি কেনার জন্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা অগ্রিম দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
শুধু আর্থিক বিষয় নয়, প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিক্ষিকাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও অপমানজনক ভাষায় কথা বলা হয়। এমনকি এক শিক্ষিকার গায়ে হাত তোলার অভিযোগও এদিনের বিক্ষোভে সামনে আসে।
সহ-প্রধান শিক্ষিকা নিয়োগেও অনিয়ম ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের দাবি, যোগ্য প্রার্থীকে কম নম্বর দিয়ে অন্য প্রার্থীকে বেশি নম্বর দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহার করে মর্নিং সেশনে একটি বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে এবং স্কুল চলাকালীন বহিরাগতদের যোগ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, ম্যানেজিং কমিটির বৈঠকে আলোচনা না হওয়া বিষয়ও পরবর্তীতে রেজোলিউশন খাতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের একাংশ।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, বিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে, অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ছাত্রীদের জন্য স্বাভাবিক ও সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
অভিযোগকারী শিক্ষিকারা জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই শিক্ষা দফতরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এবার দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
তবে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।