নিজস্ব সংবাদদাতা: অসম ভারতের উত্তর-পূর্ব কোণে পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত একটি রাজ্য। মানচিত্রের অবস্থানগত দিক থেকে ব্রহ্মপুত্র নদে হিমালয়, অরুণাচল প্রদেশ, ভুটান এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে শত শত উপনদী এসে মিশেছে। বর্ষাকালে এই সব এলাকায় একসঙ্গে প্রবল বৃষ্টি হলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ জল ব্রহ্মপুত্রে এসে পড়ে। ফলে নদীর ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে জল দ্রুত উপচে পড়ছে । এরই ফলে, ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে অসমে ।জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বর্ষার ঋতুগত বৈচিত্র্যের বদল ঘটছে। ফলে , কয়েক দিন ধরে মাঝারি বৃষ্টি হলেও এখন অল্প সময়ে অত্যন্ত বেশি বৃষ্টি বা মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনা বাড়ছে।

বিজ্ঞানীদের তথ্যানুযায়ী, প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বায়ুমণ্ডল প্রায় ৭ শতাংশ বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে। ফলে অল্প সময়ে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা দীর্ঘদিন যাবৎ অনেকগুন বেড়ে যাচ্ছে ।অসমের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির প্রধান কারণগুলির মধ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত ভারী বৃষ্টিপাত, ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদীগুলির জলস্তর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, এবং পাহাড়ি ঢাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

অসম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের (ASDMA)-র তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ৬২২টি গ্রামের ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৬৩৯ জন প্রবল দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। প্রায় ৪৫,৩৪১.৯৮ হেক্টর কৃষিজমি এখনও জলের তলায়।বর্তমানে ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৬৩৯ জন মানুষ বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। বর্তমানে শিবসাগর, গোলাঘাট, জোরহাট, চরাইদেও-সহ একাধিক জেলা এখনও বন্যার প্রভাবে বিপর্যস্ত। ইতিমধ্যে, লাগাতার বর্ষণে ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদীগুলি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে বলে জানা গিয়েছে। এরই মধ্যে, রাজ্যের একাধিক জেলা এখনও জলমগ্ন, অধিকাংশ পরিবার ঘরছাড়া হয়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। এরই মধ্যে,বহু বাড়িঘর, রাস্তা, সেতু এবং কৃষিজমি সহ গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসম সরকার বন্যায় মৃতদের পরিবারকে প্রায় ৯ লক্ষ এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন । এছাড়াও, এক লক্ষেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১৫,০০০ করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অসম সরকার। একইসাথে , বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে ফিরতে সহায়তার জন্য বিশেষ Student Grant দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অসম সরকার ।
ইতিমধ্যে,কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করছেন। রিপোর্টনুযায়ী, অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্গঠন প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । সূত্রের খবর,NDRF, SDRF, সেনা, পুলিশ, রাজ্য প্রশাসন এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন উত্তর-পূর্ব ভারতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নদীর জলস্তর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।