বসিরহাট : বাবার মরদেহ সৎকারের মতো সামান্য অর্থও ছিল না পরিবারের হাতে। অসহায় সেই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের অর্থে দাহকার্যের ব্যবস্থা করলেন এক মুসলিম যুবক। বসিরহাটের স্বরূপনগর ব্লকের তেঁতুলিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনায় সামনে এল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিকতার অনন্য নজির।
জানা গিয়েছে, তেঁতুলিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করতেন বছর পঞ্চাশের বাপি দাস। অত্যন্ত অভাবের মধ্যে দিন কাটত তার পরিবারের। তার দুই ছেলে জয়ন্ত দাস ও মন্টু দাসও অসুস্থ বলে জানা গিয়েছে। সংসারে নিয়মিত আয়ের কোনও ব্যবস্থা না থাকায় বাবার মৃত্যুর পর শেষকৃত্যের খরচ জোগাড় করতে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন তারা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, রাস্তার পাশে মরদেহ রেখে এলাকার মানুষজন গাড়ি দাঁড় করিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সাহায্য সংগ্রহের চেষ্টা শুরু করেন। সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছন সেলিম মণ্ডল নামে এক মুসলিম যুবক। পরিবারের অসহায় পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে দাহকার্যের সমস্ত খরচ নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি।
শুধু অর্থ দিয়ে সাহায্য নয়, মৃতদেহের শেষযাত্রা থেকে শুরু করে দাহকার্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় পরিবারের পাশে ছিলেন সেলিম। তিনি পেশায় ট্রাভেলস ব্যবসায়ী এবং কাটিয়াহাটে তার ব্যবসা রয়েছে।
সেলিম মণ্ডল বলেন, “একজন মানুষ মারা যাওয়ার পর তার শেষকৃত্যটুকু সম্মানের সঙ্গে হওয়া উচিত। পরিবারের কাছে টাকা না থাকার কথা জানতে পেরে আমি যতটা পারি সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিই। এখানে হিন্দু-মুসলিম দেখার কোনও বিষয় নেই। উনি একজন মানুষ, আমিও একজন মানুষ।” সেলিমের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাদের কথায়, দুঃসময়ে ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে একজন মানুষের পাশে আরেকজন মানুষের দাঁড়ানোর এই ঘটনা সমাজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।