নিজস্ব প্রতিনিধি : মোহন ভাগবতের নিউ ইয়র্কের বক্তব্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড, ওয়ান হিউম্যানিটি’ অনুষ্ঠানে ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও মানবিক ঐক্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভাগবত হিন্দুত্বের নিজের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ধর্মের পথ আলাদা হলেও মানবতা এক এবং সত্য এক। এরপর মুসলিমদের প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য আরও স্পষ্ট হয়।
তিনি বলেন, কোনও হিন্দু যদি মনে করেন ভারতে মুসলিম থাকা উচিত নয়, তাহলে তিনি হিন্দুধর্মের মূল ভাবনার প্রতি সত্যনিষ্ঠ নন। অর্থাৎ, বক্তব্যটি তাঁর নিজের হিন্দু পরিচয় অস্বীকার করার নয়; বরং ভারতে মুসলিমদের বাদ দেওয়ার ধারণাকে হিন্দুত্বের মূল ভাবনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলার। তাহলে ঠিক কী বলেছিলেন ভাগবত? তাঁর বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট জানলেই বিতর্কের আসল জায়গাটি পরিষ্কার হয়।
ভাগবত ২০১৮ সালে দিল্লিতে হওয়া একটি আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। সেখানে মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ভারতকে যদি হিন্দুরাষ্ট্র বলা হয়, তাহলে মুসলিমদের অবস্থান কী হবে? তাঁদের কি ভারত থেকে বাদ দেওয়া হবে? ভাগবতের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সেই ধারণাকে হিন্দুত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেননি।
তিনি বলেন, “ অন্য একটি প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য কে ইংরেজিতে বললে ঠিক এমনটাই দাঁড়ায়—“If any Hindu thinks that there should be no Muslim in Bharat, he will not remain Hindu.” অর্থাৎ, কোনও হিন্দু যদি মনে করেন ভারতে মুসলিমদের থাকা উচিত নয়, তাহলে তাঁর নিজের ব্যাখ্যা অনুযায়ী সেই ব্যক্তি হিন্দুত্বের মূল আদর্শ থেকে সরে যাচ্ছেন। এই বক্তব্যকে নিজের হিন্দু পরিচয় অস্বীকার করার বক্তব্য হিসেবে দেখানো ঠিক নয়।
রাজনীতির প্রসঙ্গেও ভাগবত মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, রাজনীতি অনেক সময় ব্যক্তিগত স্বার্থের খেলায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি সমাজের ভিতর থেকেও পরিবর্তন আসতে হয়।
ফলে নিউ ইয়র্কের এই বক্তব্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শব্দের অর্থকে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে দেখা। মোহন ভাগবত কোথাও বলেননি যে তিনি হিন্দু নন। তিনি বরং নিজের ব্যাখ্যায় বলেছেন, ভারতে মুসলিমদের থাকা উচিত নয়—এমন ধারণা হিন্দুধর্মের মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর বক্তব্যের মূল সূত্র ছিল ধর্মের বৈচিত্র্যের মধ্যেও মানবিক ঐক্য এবং ভারতের বহুত্বের স্বীকৃতি।