সাধন মন্ডল বাঁকুড়া : --আধুনিক থেকে অত্যাধুনিকতার ছোঁয়া সারা। বিশ্ব যখন বিজ্ঞানে উন্নতির শিখরে সেই সময়ও কুসংস্কারের আচ্ছন্ন বাঁকুড়ার বড়জোড়া এলাকার মানাচর । এলাকার মানুষের অভিযোগ তন্ত্রসাধনার নামে বশীকরণের অন্ধবিশ্বাস, নাকি হত্যার পিছনে অন্য কোনও রহস্য? অষ্টমীর দিন দেশ জুড়ে যখন চলছে অসুর নিধনের জন্য মা দুর্গার অঞ্জলি। মায়ের পুজোয় ব্যস্ত শিশু থেকে বৃদ্ধ ।মন্ডপে মণ্ডপে জনজোয়ার। সেই অষ্টমীর সন্ধ্যায় স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করে তাঁর মুণ্ডু মন্দিরে রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে।
শুধু স্ত্রী নয় তার জন্মদাতা পিতাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করেছে বলে অভিযোগ যুবকের বিরুদ্ধে। বাড়ির উঠোন থেকে উদ্ধার হয়েছে বাবার দেহ। এক রাতের এই জোড়া হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।ঘটনাটি ঘটেছে সোনামুখীর দামোদর নদের তীরবর্তী মানা চরে। অভিযুক্ত যুবকের নাম মঙ্গল চৌধুরী। তাঁর বাবা রাজেন্দ্র চৌধুরী এবং স্ত্রী রুম্পা চৌধুরীকে অস্ত্র দিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় রাত আটটা নাগাদ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগ, স্ত্রীকে খুন করার পর তাঁর মুণ্ডু কেটে নিয়ে মন্দিরে রেখে দেয় অভিযুক্ত। অন্যদিকে, বাড়ির উঠোনে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁর বাবার দেহ। একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন নৃশংস পরিণতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।প্রাথমিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তন্ত্রসাধনা ও বশীকরণের অন্ধবিশ্বাসের যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠলেও, ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দা দয়ালপাত্র, বিশাখাপাত্র ময়না পাত্র রা বলেন,"স্বামী-স্ত্রী মিলে পুজোপাঠ করত। কিন্তু এইরকম ঘটনা এই দুই ধর্মপ্রাণ মানুষের জীবনে ঘটবে তা ভাবতেই পারেনি।
এরকম ঘটনা জীবনে প্রথম দেখলাম। দুজনকে খুন করার পর ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলাকার মানুষকেও তাড়া করছিল বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ । খবর দেওয়া হয় পুলিশে তারপর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।" কী কারণে একই পরিবারের দু’জনকে এভাবে খুন করা হল, তার পিছনে কোনও পারিবারিক বিবাদ ছিল কি না, নাকি অন্য কোনও রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। সোনামুখী থানা পুলিশ মৃতদেহ দুটি নিয়ে এসে ময়নাতদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।