সাধন মন্ডল, বাঁকুড়া: গড় রাইপুর উচ্চ বিদ্যালয় (উচ্চ মাধ্যমিক)এর ছাত্রাবাসে থাকে প্রায় ৩৩০ জন ছাত্র। ছাত্রাবাসের দুটি পৃথক জায়গায় ছাত্ররা থাকে। একটি হলো বিদ্যালয় সংলগ্ন ভীমরাও আম্বেদকর ছাত্রাবাস অন্যটি রাইপুর থানাগোড়ার থানা প্রাচীর সংলগ্ন থানাগোড়া বাজারের মধ্যে থাকা ছাত্রাবাস। এই থানাগোড়ায় যে ছাত্রাবাসটি রয়েছে সেখানে ছাত্রদের থাকার জন্য নেই উপযুক্ত পরিবেশ। আজ প্রায় একমাস ধরে এই ছাত্রাবাসে থাকা ছাত্রদের পানীয়জলের সমস্যা। তাদের ছাত্রাবাসের মধ্যে একটি নলকূপ থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে এছাড়া তাদের ছাত্রাবাসের ছাদের উপরে জলের ট্যাংকি থাকলেও পাইপ লাইনের মাধ্যমে জল আসে না।থানার দেওয়াল সংলগ্ন পি এইচ পি এর সর্বসাধারণের জন্য একটি পানীয় জলের ট্যাংকি থেকে ছাত্রদের পানীয় জল ভরিয়ে নিয়ে যেতে হয়।
তাছাড়া ওই ট্যাংকি থেকেই তাদের প্রয়োজনীয় শৌচাগারে ব্যবহারের জন্য জল ও স্নানের জল নিয়ে যেতে হয় । আবার এই ছাত্ররা কখনো কখনো নিকটবর্তী নদীতে গিয়ে স্নান করে ও শৌচকর্ম করে। যা অত্যন্ত বিপদজনক। যেকোনো সময় ছাত্রদের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে এখানে উল্লেখ্য এই ছাত্রাবাসে পঞ্চম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় 40 জন ছাত্র থাকে। ছাত্রদের সাথে কথা বলে জানা যায় বাধ্য হয়ে তারা নদীতে এই কর্মগুলি করতে যায়। বারবার প্রধান শিক্ষক মধুসূদন মন্ডলকে তাদের সমস্যার কথা জানালেও কোন সূরাহা হয়নি। অন্যদিকে শুক্রবার এই দুই ছাত্রাবাসের ছাত্রদের রাত্রের মিলে ভাতের বদলে মুড়ি চানাচুর দেওয়া হয়। যা অনুচিত ও অনৈতিক বলে অভিভাবকরা দাবি করেন। এই বিষয়গুলি নিয়ে আমরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মধুসূদন মন্ডল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে নেন ছাত্রাবাসে কাঠের অভাব থাকায় শুক্রবার রাত্রে ভাত রান্না হয়নি।
অন্যদিকে থানা সংলগ্ন ছাত্রাবাসে ছাত্রদের পানীয় জল ও শৌচকর্মের জন্য প্রয়োজনীয় জল না থাকার বিষয়টিও মেনে নেন। এখানে উল্লেখ্য থানা গোড়া বাজারে থানা প্রাচীর সংলগ্ন জায়গায় পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের জন্য একটি পানীয় জলের সাবমারসিবল রয়েছে সেটি বেশ কিছুদিন ধরে খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। স্থানীয়রা বলেন ওই সাবমারসিবল থেকে প্রধান শিক্ষক মধুসূদন মন্ডল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রাবাসে একটি পানীয় জলের ট্যাংকিতে জল ভরতেন এবং তা ছাত্রদের ব্যবহার করা হতো। স্থানীয় অধিবাসী সুদীপ সাহু সহ অন্যান্যরা বলেন ছাত্রাবাস থাকলেও ছাত্রদের প্রয়োজনীয় জলের ব্যবস্থা করেননি প্রধান শিক্ষক মধুসূদন মন্ডল। তাছাড়া এই ছাত্রাবাস সম্পর্কে স্থানীয় অধিবাসী সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ এটি অবৈধ ।এখানে বেশ কয়েকজন ছাত্রকে টাকার বিনিময়ে রাখা হয়েছে যা অনুচিত। প্রধান শিক্ষক মধুসূদন মন্ডল বলেন ওখানে একটি পঞ্চায়েতের সাবমারসিবল ছিল সেটি বেশ কিছুদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে পঞ্চায়েতে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করি শীঘ্রই এই সমস্যা মিটে যাবে। স্থানীয়রা বলেন অবিলম্বে ছাত্রদের এই সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।