সেখ রিয়াজুদ্দিন, বীরভূম: টেট সমস্যা অবিলম্বে নিরসন, শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষকদের শিক্ষা-বহির্ভূত কাজে না লাগানো, প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কর্মী নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গ্র্যান্ড ইন এইড কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ প্রদানের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে গণ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (বিপিটিএ) উদ্যোগে রবিবার বোলপুর শ্রীনন্দা হাই স্কুলে।
উপস্থিত ছিলেন বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ বরণ হান্ডা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকারা অংশগ্রহণ করে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিপিটিএ-র ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এসটিইএ এবং কুটাবের জেলা নেতৃত্বও উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে বিপিটিএ-র সাধারণ সম্পাদক আগামী ৭ অক্টোবর কলকাতার করুণাময়ীতে ‘টেট অ্যাফেক্টেড টিচার্স’-এর ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সকলকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান।
বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বীরভূম জেলা সম্পাদিকা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজ্যের স্পেশাল সেক্রেটারির পক্ষ থেকে এসএসসি এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে কর্মরত শিক্ষকদের টেট পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কর্মরত শিক্ষকদের প্রতি এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত অমর্যাদাকর বলে দাবি করে তিনি বলেন, “বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি এই নির্দেশিকার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং অবিলম্বে সার্কুলারটি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে।”
সমিতির বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট কর্মরত শিক্ষকদের টেট উত্তীর্ণ হয়ে চাকরি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। অথচ বিষয়টি শিক্ষা যুগ্ম তালিকাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও এ ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের বক্তব্য আদালত জানতে চায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যসভায় এক সাংসদের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যেও বিষয়টি উঠে এসেছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পাশাপাশি এ বিষয়ে এনসিটিই-রও কোনও নির্দিষ্ট বক্তব্য নেই বলে দাবি সমিতির।
ফরিদা ইয়াসমিন আরও বলেন, তামিলনাড়ু সরকার গত ২৫ আগস্ট কর্মরত শিক্ষকদের টেট না নেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। জম্মু-কাশ্মীর সরকারও একই পথে হাঁটতে পারে বলে সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠিত হলে টেট সমস্যা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের চার মাস পরও কোনও পদক্ষেপ না নিয়ে টেট গ্রহণের উদ্যোগ শিক্ষক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাঁদের দাবি, এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে শিক্ষা স্বার্থবিরোধী।
সংগঠনের আরও দাবি, টেট পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাপক সংখ্যক কর্মরত শিক্ষক চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। পাশাপাশি নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরির বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। সমিতির বক্তব্য, কর্মরত শিক্ষকরা তৎকালীন সময়ে নির্ধারিত নিয়োগ পদ্ধতি মেনেই নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন। ফলে চাকরি রক্ষার জন্যে তাঁদের পুনরায় পরীক্ষায় বসতে বাধ্য করা শিক্ষকদের প্রতি অমর্যাদাকর আচরণ।
এর ফলে বিপুল সংখ্যক বিদ্যালয় শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়তে পারে এবং রাজ্যের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা গুরুতর সংকটের মুখে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
এমতাবস্থায় অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সার্কুলার প্রত্যাহার, টেট সমস্যার স্থায়ী সমাধান, কর্মরত শিক্ষকদের চাকরির সুরক্ষা এবং সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। পাশাপাশি দল-মত নির্বিশেষে সমস্ত শিক্ষককে এই আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।