কলকাতার ছেলে অস্কার ক্লেইন পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে !
সংবাদ ভারত ডেস্ক : ২০২৬ সালের অস্কার ক্লেইন পদক পেলেন বিশিষ্ট ভারতীয় তাত্ত্বিক পদার্থবিদ অশোক সেন। এই সম্মান পাওয়া প্রথম ভারতীয় পদার্থবিদ তিনি। স্ট্রিং তত্ত্ব, ব্ল্যাক হোলের এনট্রপি এবং মহাকর্ষের গভীর রহস্য নিয়ে তাঁর গবেষণা আধুনিক পদার্থবিদ্যার জগতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
বেঙ্গালুরুর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল সায়েন্সেসে কর্মরত এই বিজ্ঞানীর নতুন স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চার আন্তর্জাতিক পরিচিতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। মহাবিশ্বের মৌলিক নিয়ম বোঝার কঠিন গবেষণায় তাঁর অবদান আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনায় নিয়ে এল এক বাঙালি বিজ্ঞানীকে।
অশোক সেনের গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র স্ট্রিং তত্ত্ব। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রকৃতির মৌলিক কণাগুলিকে অতি ক্ষুদ্র কম্পনশীল সুতোর মতো কাঠামো দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়। এর লক্ষ্য কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা এবং মহাকর্ষের মধ্যে সম্পর্ক বোঝা। এই গবেষণায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান এস-ডুয়ালিটি। সহজ করে বললে, কোনও তত্ত্বের শক্তিশালী পারস্পরিক ক্রিয়াকে অন্য একটি তত্ত্বের দুর্বল ক্রিয়ার সাহায্যে বোঝার পথ দেখায় এই ধারণা। তাঁর কাজ স্ট্রিং তত্ত্বের বিভিন্ন কাঠামোর মধ্যে গভীর সম্পর্ক উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
ব্ল্যাক হোল নিয়েও তাঁর গবেষণা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ব্ল্যাক হোলের এনট্রপি বলতে তার সঙ্গে যুক্ত এমন একটি পরিমাপকে বোঝায়, যা কোয়ান্টাম স্তরে তার সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ অবস্থার সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা দেয়। অশোক সেনের গবেষণা ব্ল্যাক হোলের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোয়ান্টাম অবস্থাগুলির সংখ্যা নির্ভুলভাবে গণনা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। পাশাপাশি স্ট্রিং ফিল্ড তত্ত্ব নিয়েও তাঁর কাজ আধুনিক তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এই সব ক্ষেত্রেই তাঁর মৌলিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এসেছে ২০২৬ সালের অস্কার ক্লেইন পদক।
বর্তমানে অশোক সেন বেঙ্গালুরুর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল সায়েন্সেসে ইনফোসিস মাধব চেয়ার অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলবানোভা কেন্দ্রে তিনি অস্কার ক্লেইন স্মারক বক্তৃতা দেন। বক্তৃতার শিরোনাম ছিল, ‘গ্র্যাভিটি ফ্রম স্ট্রিংস অ্যান্ড স্ট্রিংস ফ্রম গ্র্যাভিটি’। কলকাতার এক ছাত্রের বিজ্ঞানচর্চা থেকে আন্তর্জাতিক গবেষণার শীর্ষ মঞ্চে পৌঁছনোর এই যাত্রায় নতুন সংযোজন হল এমন এক পদক, যা প্রথমবারের জন্য কোনও ভারতীয় পদার্থবিদের হাতে উঠল।