বসিরহাট : আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল বসিরহাট পুলিশ জেলা। পুজোর আগে এবং পুজোর দিনগুলিতে মহিলারা যাতে নির্বিঘ্নে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করতে পারেন, পুজোর কেনাকাটা করতে পারেন এবং প্রতিমা দর্শনে বেরিয়ে কোনওরকম সমস্যার মুখে না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই বসিরহাটের সুন্দরবনের ন্যাজাট থানা এলাকায় টহল দিল পুলিশের বিশেষ মহিলা বাহিনী ‘দুর্গা বাহিনী’।
বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অলকানন্দা ভাওয়ালের নির্দেশে, মিনাখাঁর এসডিপিও দেবাশিস চট্টরাজের নেতৃত্বে ও ন্যাজাট থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক নির্মাল্য দত্তর সহযোগিতায় দুর্গা বাহিনীর সদস্যরা ন্যাজাট থানা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঘোরেন। এলাকার জনবহুল জায়গা, বিভিন্ন দোকানপাট এবং ফেরিঘাট পরিদর্শন করেন তারা। পাশাপাশি, সাধারণ মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কথা জানার চেষ্টা করেন মহিলা পুলিশকর্মীরা। মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি, কোনওরকম সমস্যা বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়লে কীভাবে পুলিশের সাহায্য নেওয়া যায়, সে বিষয়েও সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুর্গাপুজোর সময় বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়ে। কেনাকাটা, প্রতিমা দর্শন এবং আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য বহু মহিলা বাড়ির বাইরে বের হন।
বিশেষ করে বাজার, ফেরিঘাট ও অন্যান্য জনবহুল এলাকায় ভিড়ের সুযোগ নিয়ে যাতে কেউ মহিলাদের হেনস্থা করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখাই পুলিশের এই বিশেষ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। সেই কারণে পুজোর আগেই বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে দুর্গা বাহিনী। সুন্দরবনের ন্যাজাটের মতো নদী ও ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে ফেরিঘাটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিদিন বহু মানুষ নানা প্রয়োজনে এই সমস্ত ঘাট ব্যবহার করেন। পুজোর সময় যাত্রীসংখ্যা বাড়লে নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। তাই ফেরিঘাটগুলিতে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের উপরেও জোর দেন মহিলা পুলিশকর্মীরা।
পুলিশের এই উদ্যোগে মহিলাদের মধ্যে নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু পুজোর কয়েকটি দিন নয়, মহিলাদের নিরাপত্তা এবং তাদের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়াতে এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বসিরহাট পুলিশ জেলার উদ্যোগে দুর্গা বাহিনীর এই তৎপরতা পুজোর আগে মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার প্রচেষ্টারই একটি অংশ।