বসিরহাট : নতুন ভারত গড়ার ক্ষেত্রে যুব সমাজকেই দেশের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। যুবকদের মধ্যে চরিত্র গঠন, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং মানুষের সেবার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তার সেই আদর্শ ও ভাবধারাকে সামনে রেখে স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতার ১৩৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে যুব সম্মেলনের আয়োজন করল টাকি রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম।
টাকি রামকৃষ্ণ মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিবেকানন্দ সভাগৃহে এই যুব সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বামী বিবেকানন্দের জীবন, আদর্শ, যুব সমাজের ভূমিকা এবং ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈদিক আধ্যাত্মিকতা ও মানবসেবার ভাবধারাকে জীবনে গ্রহণ করার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। উল্লেখ্য, ১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার শিকাগো শহরে বিশ্বধর্ম মহাসভায় স্বামী বিবেকানন্দ হিন্দুধর্মের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তার সেই ঐতিহাসিক বক্তৃতায় ভারতীয় সনাতন ধর্ম, বেদান্তের ভাবধারা এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বার্তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। সেই ঐতিহাসিক দিনকে স্মরণ করেই টাকিতে এই যুব সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেলুড় মঠের রামকৃষ্ণ মিশন শিল্পমন্দিরের মহারাজ স্বামী বেদাতীতানন্দজী, রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ স্বামী বেদানুরাগানন্দজী, টাকি রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক স্বামী পরিশুদ্ধানন্দজী এবং টাকি রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান শিক্ষক স্বামী পূর্ণময়ানন্দজী।
এছাড়াও টাকি ও হাসনাবাদের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা সম্মেলনে অংশ নেয়। যুব সমাজকে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসার বার্তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের তাৎপর্য আরও বাড়ে। চরিত্র গঠন ও আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজসেবাকে জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয় সম্মেলন থেকে।