বসিরহাট : কাটমানি নেওয়া, দুর্নীতি এবং একাধিক সরকারি প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বুধবার সন্দেশখালির মনিপুর এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযুক্ত প্রধানের নাম প্রসেনজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বসিরহাটের সন্দেশখালি ১নং ব্লকের মনিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের একাংশ গত কয়েকদিন ধরে প্রসেনজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে আসছিলেন। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় বিভিন্ন অবৈধ কাজ চালানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে হুমকি দিয়ে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানীয় জলের নলকূপ বসানো, রাস্তা তৈরি, নদীর বাঁধ সংস্কার-সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বরাদ্দ অর্থ যথাযথভাবে খরচ না করে আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে। একশো দিনের প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কাটমানি নেওয়া, খাস জমির পাট্টা এবং আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করেও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর পুলিশ প্রসেনজিৎকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভে সামিল হন। তাদের দাবি, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাদের সেই টাকা ফেরত দিতে হবে এবং এলাকায় আটকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, খাতা-কলমে কাজ দেখিয়ে সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা কালীশঙ্কর পাণ্ডা, নবারুণ মণ্ডল, খাদিমূল গাজি, শান্তি মুন্ডা সহ বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে টাকা উদ্ধারের দাবি জানান। যদিও অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান প্রসেনজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, তিনি তৃণমূল করেন বলেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে মনিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৩৮নং বুথের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য মিতা খামারু ও তার স্বামীর বাড়ির সামনেও বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের বিরুদ্ধেও খাস জমির পাট্টা এবং আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় পানীয় জলের নলকূপ ও রাস্তার কাজ না করেও বরাদ্দ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। অন্যদিকে, অভিযোগগুলির সত্যতা এবং সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে কোনও অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।