সঞ্জনা সমাদ্দার, সংবাদ ভারত ডেস্ক : মার্কিন সেনেটে ‘লিন্দসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ (Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026) বিলটি ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়েছে। এই বিল আইনে পরিণত হলে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির কারণে ভারতসহ শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়াও রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি তেল ও গ্যাস কেনা শীর্ষ পাঁচ দেশ—ভারত, চীন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজানকে এই বিলের আওতায় রাখা হয়েছে বলে সূত্রের খবর | যা আগামী ৩১ শে আগস্ট অধিবেশন শুরু হলে এটি নিয়ে আলোচনা করবে। প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়ে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পরই এটি চূড়ান্ত আইনে পরিণত হবে।

সেনেটের ভোটে ১০০ জনের মধ্যে ৯৭ জন ভোট দেন এবং ৮৬ জন বিলটির পক্ষে ছিলেন। মাত্র ১১ জন বিপক্ষে ভোট দেন। একমাত্র রিপাবলিকান সেনেটর র্যান্ড পল বিলটির বিরুদ্ধে ভোট দেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, শুল্ক আসলে মার্কিন ভোক্তাদের উপর করের মতো চাপ তৈরি করতে পারে। এই বিলের লক্ষ্য মূলত রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রি থেকে পাওয়া আয় কমানো। কারণ ইউক্রেন যুদ্ধের পরেও রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে রয়েছে একাধিক দেশ। নতুন বিল অনুযায়ী, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা গ্যাসের সবচেয়ে বড় পাঁচ ক্রেতা দেশের পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর সুযোগ থাকবে। একই ভাবে রাশিয়ার জ্বালানি সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করা শীর্ষ পাঁচ দেশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা যাবে।

ভারত বরাবরই জানিয়ে এসেছে যে তাদের জ্বালানি আমদানির নীতি দেশের শক্তির নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক চাহিদার উপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়। ভারতের সামনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল ১০০ শতাংশ শুল্ক ইতিমধ্যেই চালু হয়ে যাওয়া নয়, বরং আমেরিকার হাতে এমন একটি ব্যবস্থা চলে আসার সম্ভাবনা, যা রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতীয় পণ্যের উপর অত্যন্ত বড় বাণিজ্যিক চাপ তৈরি করতে পারে। বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে কীভাবে এগোয় এবং আইন হয়ে গেলে ট্রাম্প সেই ক্ষমতা আদৌ ব্যবহার করেন কি না, তার উপরই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।