মোল্লা জসিমউদ্দিন, সোমবারই রাজ্যে চালু হয়েছে অপরাধ দমনে নুতন আইন।যেখানে পুলিশের ক্ষমতা বৃদ্ধি ঘটেছে বলে আইনবিদদের দাবি।রাজ্যে সদ্য কার্যকর হওয়া 'পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ আইন' নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় । গুন্ডাদমন আইনকে চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থ মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়ে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানান আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়।আবেদনকারীর বক্তব্য শোনার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মামলা দায়েরের অনুমতি দেন।একই সঙ্গে তিনি জানান, -'জনস্বার্থ মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের হওয়ার পরই আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য গ্রহণ করবে'। এরফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যের বহুচর্চিত এই আইন নিয়ে হাইকোর্টে আইনি লড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।সোমবার কার্যকর হওয়া এই আইনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, বেআইনি জমি দখল, সংগঠিত অপরাধ-সহ সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রুখতেই এই আইন প্রয়োজন।
অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, আইনের কয়েকটি বিধান নাগরিক অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিপন্থী হতে পারে এবং এর অপব্যবহারের আশঙ্কাও রয়েছে।মানবাধিকার কর্মীদের পক্ষে আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় এদিন সকালে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মামলাকারীদের মূল অভিযোগ, এই আইনটি 'সংবিধানবিরোধী' এবং এর ধারাগুলো প্রয়োগ করে সাধারণ মানুষের মৌলিক ও নাগরিক অধিকার খর্ব করা হতে পারে। তাই আইনটির ওপর অবিলম্বে আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।তবে এই মামলার শুনানি এখনই জরুরি ভিত্তিতে করতে রাজি হয়নি আদালত।এই আবহেই হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়েরের উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
আদালত মামলাটি গ্রহণ করার পর আইনের সাংবিধানিক বৈধতা, নাগরিক অধিকার এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা নিয়ে বিস্তারিত শুনানি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।চলতি সপ্তাহে শুনানি হতে পারে।গত ২৯ জুন, রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয় 'পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬'। যা সংক্ষেপে 'গুন্ডাদমন বিল' নামে পরিচিত। বিলের খসড়ায় বলা হয়েছে, কমিশন চাইলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণের চেয়েও দ্বিগুণ 'দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ' বা জরিমানা চাপাতে পারে। এখানেই শেষ নয়, বর্তমানে যে আইন রয়েছে তা অন্তত এই বাংলায় আইনের শাসন কায়েম করে রাখার পক্ষে যথেষ্ট নয়।
বিলে পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থাকে বিপুল ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কারণ তৃণমূল জমানায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ, গুন্ডামি যে চরম মাত্রায় পৌঁছেছিল তা ঠান্ডা করতে বাড়তি দাওয়াই দরকার। প্রস্তাবিত নতুন বিল হল সেই দাওয়াই। বিলটি ধ্বনিভোটে পাশ হয়ে আইনে পরিণত হয়। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়, ১৩ জুলাই থেকে তা রাজ্যজুড়ে কার্যকর হয়েছে।