সেখ রিয়াজুদ্দিন, বীরভূম : বীরভূমের জয়দেব-কেঁদুলির বৈষ্ণব তীর্থভূমিতে প্রতি বছরের মতো এ বছরও শ্যামসখা আশ্রমের উদ্যোগে রবিবার (১৯ জুলাই) মহাসমারোহে পালিত হলো বর্ষামঙ্গল উৎসব। "এসো মিলি প্রকৃতির টানে"— এই মূল ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত উৎসবটি প্রকৃতিপ্রেম, পরিবেশ সচেতনতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক সুন্দর মেলবন্ধনে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনায় প্রকৃতি পূজার মাধ্যমে পরিবেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়। এরপর বাউল ও লোকসংগীতের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে আশ্রম প্রাঙ্গণ।

পাশাপাশি বর্তমান সময়ে পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, অরণ্য ধ্বংস এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে একটি আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, যেখানে উপস্থিত অতিথি ও আশ্রমের সদস্যরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে শ্যামসখা আশ্রমের কর্ণধার শ্যাম হালদার বলেন, "পৃথিবীর সমস্ত প্রাণের মধ্যে এক গভীর ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার ব্যস্ততায় মানুষ সেই সত্যকে ক্রমশ ভুলে যাচ্ছে। সবুজ বৃক্ষই আমাদের প্রাণবায়ুর উৎস, তাই প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানেই নিজেদের অস্তিত্বকে রক্ষা করা।"

তিনি আরও বলেন, "অরণ্য ও জীববৈচিত্র্যের সহাবস্থানই প্রকৃতির আদিম সৌন্দর্য। কিন্তু মানুষের লাগামহীন ভোগবাদী মানসিকতা ও নির্বিচার বন উজাড়ের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর প্রভাব হিসেবে বাড়ছে দূষণ, তীব্র হচ্ছে বিশ্ব উষ্ণায়ন, দ্রুত গলছে মেরু অঞ্চলের বরফ এবং বিপন্ন হয়ে পড়ছে সমগ্র জীবজগৎ।"
এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হিসেবে তিনি প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, মানুষ যদি নিজের ভেতরে প্রকৃতির অস্তিত্ব উপলব্ধি করতে শেখে, তবেই অরণ্য, জীববৈচিত্র্য এবং পৃথিবীকে রক্ষা করা সম্ভব।
প্রকৃতির আহ্বান, বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা এবং লোকসংস্কৃতির অনন্য সমন্বয়ে শ্যামসখা আশ্রমের বর্ষামঙ্গল উৎসব উপস্থিত সকলের মনে গভীর ছাপ ফেলে। পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ১৪ জুলাই থেকে সপ্তাহব্যাপী ‘অরণ্য সপ্তাহ’ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সেই আবহেই শ্যামসখা আশ্রমের এই বর্ষামঙ্গল উৎসব অরণ্য সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশ সচেতনতার বার্তাকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।