সেখ রিয়াজউদ্দিন, বীরভূম : ডেউচায় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার করেছে বীরভূম জেলা পুলিশ। বহুল আলোচিত এই মামলায় তদন্তের অগ্রগতির স্বার্থে শনিবার ফের ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তদন্তকারী দল। এদিন মিনার মণ্ডলের বাড়ির একটি বিস্তারিত সাইট স্কেচ (Site Sketch) প্রস্তুত করা হয়। বাড়ির কাঠামো, বিভিন্ন কক্ষের অবস্থান, প্রবেশ ও নির্গমন পথ, সংযোগ রাস্তা-সহ তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত বিষয় নথিভুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে ডেউচা এলাকায় টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মিনার মণ্ডলের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালায় পুলিশ। পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই অভিযানে প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়। এই বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে ডেউচা।
শনিবার তদন্তকারী আধিকারিকরা বাড়ির প্রতিটি অংশ খুঁটিয়ে পরিদর্শন করেন। বিভিন্ন ঘর, সিঁড়ি, প্রবেশ ও বেরোনোর পথ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে একটি বিস্তারিত স্কেচ ম্যাপ তৈরি করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, ভবিষ্যতে প্রমাণ সংগ্রহ, ঘটনার পুনর্গঠন এবং আদালতে মামলার শুনানির সময় এই স্কেচ গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
পুলিশি প্রক্রিয়া অনুযায়ী ঘটনাস্থলের পরিমাপ ও নথিভুক্তিকরণের সময় উপস্থিত ছিলেন ডেউচা গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক সোনালী বাগতি। তাঁর উপস্থিতিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে সাইট স্কেচ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়।
এদিকে, এই ঘটনায় গ্রেফতার মিনার মণ্ডল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনার প্রকৃত উৎস, এই সম্পদের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এর পিছনে কোনও বৃহত্তর অবৈধ আর্থিক চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী দল। প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী টুলু মণ্ডল ওরফে নাজিমুদ্দিনকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, অবৈধ বালি ও পাথর ব্যবসা, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি এবং নামে-বেনামে গড়ে ওঠা বিপুল সম্পত্তির বিষয়ে তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট একাধিক সম্পত্তি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।