বসিরহাট : টাকি পর্যটন কেন্দ্রে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের নজিরবিহীন অভিযান। টাকি পৌরসভা পরিচালিত একটি অতিথিশালার রান্নাঘর বন্ধ করে দিলেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। পাশাপাশি একটি বেসরকারি রেস্তোরাঁকে পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং একটি বিলাসবহুল হোটেলকে নোটিশ ধরানো হয়েছে। ঘটনাটি বসিরহাটের টাকি পর্যটন কেন্দ্রের।
ইছামতি নদীর পাড়ে টাকি পৌরসভার পরিচালনায় রয়েছে একটি অতিথিশালা। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, অতিথিশালাটি পৌরসভার অধীনে থাকলেও সেটি পরিচালনার দায়িত্ব টেন্ডারের মাধ্যমে এক ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, অতিথিশালায় খাবার তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বৈধ নথি ও অনুমতিপত্রের ঘাটতি ছিল। ফুড লাইসেন্স ও ফায়ার লাইসেন্স সহ মোট ন’টি প্রয়োজনীয় নথি বা অনুমতিপত্র না থাকায় রবিবার অভিযানে গিয়ে অতিথিশালার রান্নাঘরটি সিল করে দেন আধিকারিকরা।
শুধু পৌরসভা পরিচালিত অতিথিশালাই নয়, এদিন টাকির বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁতেও অভিযান চালানো হয়। একটি বেসরকারি রেস্তোরাঁয় মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার ও পর্যাপ্ত নথির অভাব ধরা পড়ায় সেটিকে পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ইছামতি নদী পাড়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলকেও প্রয়োজনীয় নথি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অভিযানে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন টাকি পৌরসভার আধিকারিক, হাসনাবাদ থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
পর্যটন মরশুমে টাকিতে প্রতিদিনই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি দেশের নানা জায়গা থেকে পর্যটকরা আসেন। ফলে পর্যটকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই এই অভিযান বলে জানিয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। বসিরহাট খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের ফুড ইন্সপেক্টর ডঃ অপরাজিতা মজুমদার বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো আমরা পুরো বসিরহাট জুড়েই অভিযান চালাচ্ছি।
টাকি যেহেতু একটি পর্যটন কেন্দ্র, এখানে রাজ্যসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ঘুরতে আসেন। তাদের যে খাবারগুলি দেওয়া হচ্ছে, সেগুলি স্বাস্থ্যসম্মত কিনা এবং সঠিক নিয়ম মেনে খাবার তৈরি হচ্ছে কিনা, তা আমরা সরেজমিনে খতিয়ে দেখলাম। বেশ কিছু ত্রুটি রয়েছে। তাদের নোটিশ ধরানো হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতোই এই অভিযান চলছে।”
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের এই অভিযানের পর টাকি পর্যটন কেন্দ্রের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলিতে খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্র বজায় রাখার বিষয়টি নতুন করে সামনে এল।