সেখ রিয়াজুদ্দিন, বীরভূম : রামপুরহাটে ‘নেতাজি সুভাষ রোড’-এর নাম পরিবর্তনকে ঘিরে বিতর্কের অবসান হয়েছে বলে দাবি করল এসইউসিআই(কমিউনিস্ট)। দলটির দাবি, সর্বস্তরের মানুষের প্রতিবাদের চাপে শেষ পর্যন্ত ওই রাস্তার নাম অপরিবর্তিত রাখতে বাধ্য হয়েছে বিজেপি।
এসইউসিআই(কমিউনিস্ট)-এর বীরভূম জেলা কমিটির সম্পাদক মদন ঘটক এক বিবৃতিতে বলেন, “জনমতের চাপে অবশেষে রামপুরহাটে ‘নেতাজি সুভাষ রোড’ নামাঙ্কিত রাস্তার নাম অপরিবর্তিত রাখতে বাধ্য হল।”
বিবৃতিতে তিনি জানান, গত ৬ জুলাই রামপুরহাটের একটি অনুষ্ঠানে রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা পাঁচমাথা থেকে ঝনঝনিয়া সাঁকো পর্যন্ত ‘নেতাজি সুভাষ রোড’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রোড’ হিসেবে নামকরণ করেন বলে অভিযোগ। সেই সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় নতুন নামের হোর্ডিংও লাগানো হয় বলে দাবি তাঁর।
এই ঘটনার পরপরই এসইউসিআই(কমিউনিস্ট) প্রতিবাদে রাস্তায় নামে বলে জানান মদন ঘটক। তাঁর দাবি, “দেশের অন্যতম মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নাম মুছে ফেলার এই প্রচেষ্টায় সাধারণ মানুষ স্তম্ভিত হয়ে যান। নেতাজি অনুরাগী সর্বস্তরের মানুষকে প্রতিবাদে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।”
রাস্তার নাম অপরিবর্তিত রাখার দাবিতে পোস্টারিং, স্বাক্ষর সংগ্রহ ও পথসভার পাশাপাশি ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও-র উদ্যোগে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সংগঠিত করে মহকুমা শাসকের কাছে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন দেওয়া হয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিক প্রতিবাদ সভারও আয়োজন করা হয়।
মদন ঘটকের দাবি, “সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের মুখে পড়ে আজ বিজেপির পক্ষ থেকে রাস্তায় লাগানো শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত হোর্ডিংগুলি সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই জয় নেতাজি অনুরাগী সর্বস্তরের মানুষের প্রতিবাদেরই ফল। এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সমস্ত স্তরের মানুষকে আমরা অভিনন্দন জানাচ্ছি।”
একই সঙ্গে মদন ঘটক অভিযোগ করেন, নেতাজি-সহ স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং বিশেষ করে আপসহীন ধারার বিপ্লবীদের পাশাপাশি বাংলার নবজাগরণের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও কাজী নজরুল ইসলামের মতো মনীষীদের “কালিমালিপ্ত করার ষড়যন্ত্র” চলছে। এর বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।