সেখ রিয়াজুদ্দিন, বীরভূম : বীরভূমের দুবরাজপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে এবার নজরকাড়া ফলাফল সামনে এল। ঐতিহ্যগতভাবে সর্বসম্মতি ও অরাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি গঠনের রীতি থাকলেও, এবারের নির্বাচন ছিল রাজনৈতিকভাবে বেশ সরগরম এবং টানটান উত্তেজনাপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত বিজেপি-সমর্থিত প্যানেলকে পরাজিত করে গুরুত্বপূর্ণ চারটি পদেই জয় ছিনিয়ে নিল তৃণমূল-সমর্থিত প্যানেল।
অতীতে সাধারণত আলোচনার মাধ্যমে প্রবীণ আইনজীবীদের সভাপতি ও সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হতো। তবে এবার নির্বাচন কীভাবে হবে—হাত তুলে নাকি ব্যালট পেপারের মাধ্যমে—তা নিয়ে আগেই আইনজীবীদের মধ্যে মতামত নেওয়া হয়। অধিকাংশ আইনজীবীর মতামতের ভিত্তিতে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই দুবরাজপুর আদালত চত্বরে রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়। বিজেপির জেলা সভাপতি, স্থানীয় বিধায়ক এবং নবনিযুক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)-সহ শাসকদলের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের আদালত চত্বরে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ছিল বেশ সরগরম। তবে উত্তেজনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশেই ভোটগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয়।
এবারের নির্বাচনে মোট পাঁচটি পদের মধ্যে কোষাধ্যক্ষ পদে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নিশ্চিত হয়েছিল। ফলে বাকি চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদ—সভাপতি, সহ-সভাপতি, সম্পাদক এবং সহকারী সম্পাদক পদে সরাসরি ভোটগ্রহণ হয়।
প্রায় ৮২ জন ভোটার এবার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি বলে মনে করা হচ্ছে। ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, চারটি পদেই তৃণমূল-সমর্থিত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা মলয় মুখার্জি জানান, তড়িঘড়ি করে নির্বাচন করার যে অভিযোগ শাসকদলের তরফে তোলা হয়েছিল, তা ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, শাসকদলের সদস্যদের সম্মতিতেই নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, অতীতে তৎকালীন বিধায়ক বিজয় বাগদী-সহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় দুবরাজপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। আগামী দিনেও দলমত নির্বিশেষে সকলেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন এবং দুবরাজপুর বারের উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন—এমনটাই আশা প্রকাশ করেন তিনি।