সেখ রিয়াজুদ্দিন,রাজনগর : সরকারি নির্দেশ মেনে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পরও দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বিল ও সিকিউরিটি ডিপোজিট না পাওয়ার অভিযোগ উঠল রাজনগর ব্লকে। বকেয়া বিল মেটানো এবং সিকিউরিটি ডিপোজিট ফেরতের দাবিতে বুধবার রাজনগর ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের (বিডিও) কাছে ডেপুটেশন দিলেন স্থানীয় ঠিকাদারদের একাংশ।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, বিডিওর স্বাক্ষরিত ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী তাঁরা আবাস যোজনা, পথশ্রী প্রকল্প এবং ১০০ দিনের কাজের (MGNREGS) বিভিন্ন কাজ নিয়ম মেনে সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘদিন পরেও তাঁদের প্রাপ্য বিলের একটি অংশ পরিশোধ করা হয়নি। বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে তাঁদের দাবি।ঠিকাদারদের আরও অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কখনও ফান্ডের অভাব, আবার কখনও উপরমহলের নির্দেশ না থাকার কথা জানানো হচ্ছে। এমনকি প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে পথশ্রী প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও ওই কাজের জন্য জমা রাখা ১০ শতাংশ সিকিউরিটি ডিপোজিট এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
বকেয়া টাকা আদায়ের দাবিতে ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে আইনজীবীর মাধ্যমে বিডিও, অতিরিক্ত জেলাশাসক (এডিএম) এবং জেলাশাসকের (ডিএম) কাছেও আইনি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তাঁরা। তবে চিঠি পাঠানোর ১৫ দিন পরেও প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও উত্তর বা সমস্যার সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ।

ঠিকাদারদের পক্ষে পরিতোষ মণ্ডল জানান, রাজনগর ব্লকের মুক্তিপুর পুকুর সংস্কার প্রকল্পের কাজের অর্ধেক বিল এখনও বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রীর বিলও দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে।
অন্যদিকে, এলাকায় তীব্র বালি সংকটের কারণে ব্লকের প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি চলমান উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন ঠিকাদারেরা। তাঁদের দাবি, রাজনগর ব্লকে প্রায় ৭০-৭৫ জন ঠিকাদারের বিভিন্ন প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ টাকা আটকে রয়েছে।
তবে প্রশাসনের প্রতি এখনও আস্থা রয়েছে বলে জানিয়ে ঠিকাদাররা দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধ, সিকিউরিটি ডিপোজিট ফেরত এবং চলমান কাজের সমস্যা সমাধানের দাবি জানান। তাঁদের আশা, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং দ্রুত সমস্যার নিষ্পত্তি করবে।