সেখ রিয়াজউদ্দিন, বীরভূম :বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে পুজো কমিটিগুলির সৃজনশীলতা, নান্দনিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করতে বীরভূম জেলা পুলিশের উদ্যোগে এবং খয়রাশোল থানার ব্যবস্থাপনায় শনিবার খয়রাশোল থানা চত্বরে অনুষ্ঠিত হলো বিজয়া সম্মিলনী ২০২৬।

অনুষ্ঠানে খয়রাশোল থানা এলাকার মোট ৬১টি দুর্গাপুজো কমিটির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বিগত দুর্গাপুজোয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ৮টি পুজো কমিটির হাতে মেমেন্টো ও শংসাপত্র তুলে দিয়ে সম্মানিত করা হয়। প্রতিমা শিল্প ও নান্দনিকতা, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব পুজো পরিচালনা, সামাজিক উদ্যোগ, নারীশক্তির অংশগ্রহণ এবং গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে মূল্যায়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি প্রতিমা নির্মাণ, আলোকসজ্জা, মণ্ডপসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা ও সামগ্রিক পুজো ব্যবস্থাপনায় বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেওয়া কমিটিগুলিকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে, এলাকার ৫৩টি কমিউনিটি পুজো কমিটিকেও গলায় উত্তরীয় পরিয়ে এবং হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে পুলিশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও মজবুত করাই ছিল এই অনুষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য। এদিন কচিকাঁচাদের নিয়ে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুজো কমিটির প্রতিনিধিরা খয়রাশোল থানার ওসি উৎপল দাস-সহ থানার সমস্ত পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, এবছর খয়রাশোল থানার পুলিশের সহযোগিতায় দুর্গাপুজো অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দিনেও এলাকার সমস্ত পুজো যাতে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তার জন্য তাঁরা সর্বতোভাবে সহযোগিতা করবেন।
এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দুর্গাপুজোকে ঘিরে সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য, শৃঙ্খলা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার এক ইতিবাচক বার্তা উঠে আসে।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা, অ্যাডিশনাল এসপি অভিষেক রায়, ডিএসপি (ক্রাইম) প্রতীক রায়, দুবরাজপুর সার্কেল ইন্সপেক্টর শুভাশীষ হালদার, গীতাভবনের অধ্যক্ষ সত্যানন্দজী মহারাজ, খয়রাশোল ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক ডঃ সৌমেন্দু গাঙ্গুলী, খয়রাশোল থানার ওসি উৎপল দাস-সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিক, পুলিশকর্মী এবং বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বিজয়া সম্মিলনীর এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি আগামী দিনের উৎসবগুলিকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার অঙ্গীকারও প্রতিফলিত হয়।