মোল্লা জসিমউদ্দিন, সময়ের ব্যবধানে জমছে পাহাড় সমান মামলা। তারিখের পর তারিখ নিয়ে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের একাংশ ফিরছে বাড়ি। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়ায় গতি বৃদ্ধি ঘটছে। নুতন আটজন বিচারপতি পেতে চলেছে কলকাতা হাইকোর্ট । গত ১২ মে সুপ্রিম কোর্টে কলেজিয়াম বিচারপতির পদের জন্য কলকাতা হাইকোর্টের জন্য নয় আইনজীবীর নাম সুপারিশ করে। পাঠানো হয় তা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে।জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে আট জনকেই বিচারপতি হিসেবে নিয়োগে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মঙ্গলবার নতুন আট বিচারপতি শপথ নেবেন।কলকাতা হাইকোর্টে ৭২ জন বিচারপতির থাকার কথা রয়েছে। নয়া আটজন বিচারপতি হিসাবে শপথ নেওয়ার পর বিচারপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৪৯ জন।বিচারপতি হিসাবে শপথ নেবেন আর্যক দত্ত, অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপ দে, পার্থসারথি রায়, সুদীপ দেব, অনুজ সিং, অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায় এবং নিষাদ মেদেরা।
তথ্য বলছে, গত দু’দশকেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। একসঙ্গে এতজন বিচারপতির নিয়োগ হয়নি কলকাতা হাইকোর্টে। এহেন সিদ্ধান্ত কিছুটা হলেও হাইকোর্টে বিচারপতির শূন্যপদের সংখ্যা কমবে বলেই আশাবাদী আইনজীবীদের একাংশ।বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টে অনুমোদিত বিচারপতির মোট আসন সংখ্যা ৭২ হলেও বাস্তবে কর্মরত বিচারপতির সংখ্যা অনেকটাই কম ছিল। যার প্রভাব সরাসরি পড়ছিল প্রতিদিনকার বিচার প্রক্রিয়ায়। নতুন এই আটজন বিচারপতি যোগ দেওয়ার পর কলকাতা হাইকোর্টে মোট সক্রিয় বিচারপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৪৯-এ।
দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতির এই বিপুল শূন্যপদ নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। পর্যাপ্ত বিচারপতির অভাবে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা নিষ্পত্তির গতি নজিরবিহীনভাবে শ্লথ হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে সময়ের সাথে সাথে নতুন মামলার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি ও অপেক্ষা কেবল বাড়ছিল।কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োগের জন্য দীর্ঘসময় ধরেই আলোচনা চলছিল। এমনকী এই বিষয়ে একাধিকবার আবেদনও জানানো হয়। বিশেষ করে গত কয়েকবছরে হাইকোর্টের উপর মামলার চাপও বেড়েছে অনেকটাই।
একদিকে আন্দামান সার্কিট বেঞ্চ, অন্যদিকে জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের চাপ বেড়েছে। দুই সার্কিট বেঞ্চেই নিয়মিতভাবে চলছে মামলার শুনানি। শুনানির জন্য নিয়মিত ১৫ দিনের জন্য চারজন বিচারপতিকে সেখানে যেতে হয়। এরফলে হাইকোর্টে চাপ বাড়ছিল।এমতাবস্থায় আগামী মঙ্গলবার থেকে কলকাতা হাইকোর্টে নুতন বিচারপতিদের দায়িত্বভার গ্রহণ পরবর্তীতে মামলায় বিচারদানে গতি বাড়বে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।