নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজ্যে রাজনৈতিক হাওয়াবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রেড রোডের কুচকাওয়াজ প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক ভাষণ দিলেন নব নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন 'রাষ্ট্রবাদী অভিবাদন' জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভাষণের কোনায় কোনায় উঠে এসেছে বাংলার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার এবং সার্বিক উন্নয়নের এক সুনির্দিষ্ট রূপরেখা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষিত লক্ষ্যকে ধরে রেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে যে 'বিকশিত ভারত' হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, তা তখনই পূর্ণতা পাবে যখন 'বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ' তৈরি সম্ভব হবে।"

পশ্চিমবঙ্গকে ‘রাষ্ট্রবাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জায়গা’ বলে বর্ণনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর বিপ্লবী এবং বাংলার পথপ্রদর্শক মহান মনীষীদের কথা । শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান ও আদর্শের কথা উল্লেখ করেন | রেড রোড থেকে মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দেন, "আমাদের একটাই লক্ষ্য - সর্বত্র উন্নয়ন ছড়িয়ে দেওয়া।" রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে অসমতা দূর করে সুশাসন পৌঁছে দেওয়াই নবগঠিত প্রশাসনের উদ্দেশ্য।
দেশের স্বাধীনতা দিবসের শুভলগ্নে এই প্রথমবার রেড রোডের কুচকাওয়াজ প্রাঙ্গণে ধ্বনিত হল জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এ সুর। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে সশ্রদ্ধ মাল্যদান এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় | পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে মোট ১২টি আকর্ষনয় ট্যাবলোর শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় । ট্যাবলোর তালিকায় অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল মনীষী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে তৈরি বিশেষ ট্যাবলো। এর পাশাপাশি একে একে প্রদর্শিত হয় ‘অন্নামৃত’, ‘কন্যারত্ন’, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’, ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’ এবং ‘দুর্গাশক্তি বাহিনী’র সুসজ্জিত ট্যাবলো। শেষলগ্নে নজর কাড়ে কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা পুরসভার নিজস্ব বিশেষ প্রদর্শনী।

বাংলার উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক বিকাশ যে অসম্পূর্ণ, তা তিনি বারবার মনে করিয়ে দেন।কেন্দ্রীয় চিন্তাভাবনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাকেও উন্নতির শীর্ষ শিখরে নিয়ে যেতে চায় তাঁর সরকার।