সঞ্জনা সমাদ্দার, ১১ ই আগস্ট , ২০২৬: ১৯০৬ থেকে ইতিহাসে ' তিরঙ্গা যাত্রার ' দীর্ঘ পরিবর্তন | তিরঙ্গা যাত্রা কি সত্যিই নতুন কোনও ঐতিহ্য? আজকের জাতীয় পতাকার ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে ' কল্লোলিনী তিলোওমা ' - র নাম। ১৯০৬ সালের ৭ ই আগস্ট বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় কলকাতার পার্সি বাগান চত্বরে প্রথম ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকা উত্তলন করা হয়। সেই পতাকায় উপরে সবুজ, মাঝে হলুদ ও নিচে লাল রঙ ছিল। মাঝখানে দেবনাগরী হরফে 'বন্দে মাতরম' এবং উপরে আটটি অর্ধস্ফুট পদ্ম ও নিচে সূর্য-চন্দ্রের প্রতীক ছিল। এই পতাকাটিকে অনেক ঐতিহাসিক 'কলকাতা ফ্ল্যাগ' বা প্রথম ভারতীয় জাতীয় পতাকার আদি রূপ বলে গণ্য করেন।

স্বাধীনতার পরে পতাকা হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের প্রতীক | কঠোর সংগ্রামের পর ভারতবাসী ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই গণপরিষদ বর্তমান তিরঙ্গাকে গ্রহণ করে। এমনকি বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলনে উত্তাল কলকাতা পরাধীন ভারতে প্রথম প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে এই পতাকা ব্যাবহৃত হয় | একইভাবে, ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই বর্তমান তিরঙ্গা জাতীয় পতাকা হিসেবে গৃহীত হওয়ার অনেক আগেই ১৯০৬ সালে কলকাতার রাজপথ ও সভা সমিতি এই পতাকার প্রথম উন্মোচন করে | এইভাবেই ২০২২ সালে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির মাধ্যমে পতাকা আবার পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে। অর্থাৎ, আজকের কলকাতার রাজপথের এই যাত্রার পিছনে রয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তৃত এক দীর্ঘ ইতিহাস। যা আমরা আজও বহন করে চলেছি |

কিন্তু তিরঙ্গার রূপ পরিবর্তিত হয়েছে | প্রায় চার দশক ধরে একাধিক নকশা, রং, প্রতীক এবং রাজনৈতিক ভাবনার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজকের জাতীয় পতাকা বিবর্তন ঘটেছে । এই ইতিহাসের একেবারে পূর্বজন্ম থেকেই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কলকাতার নাম। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই একটি বিষয় স্পষ্ট ছিল—পতাকা ধীরে ধীরে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে ওঠে |