নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: অবিলম্বে জেলার সর্বত্র ১২৫ দিনের কাজ চালু করা এবং সেটা ২০০ দিন লাগু ও ৭০০ টাকা মজুরি।বনের জমিতে আদিবাসী দের পাট্টা, সবার ভোটাধিকার ফেরত।২০০ ইউনিট ফ্রি বিদ্যুৎ এবং ৪৫০ টাকায় গ্যাস সরবরাহ। গুন্ডা দমন আইনের নামে সরকার বিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা বন্ধ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া চলবে না।
এরূপ ১২ দফা দাবিতে শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট বাঁকুড়া জেলাশাসকের দপ্তরে ডেপুটেশন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করল সারা ভারত কৃষি ও গ্রামীণ মজুর সমিতি। এদিন সকাল ১০টা থেকে বাঁকুড়ার মাচানতলার আকাশ মুক্ত মঞ্চে সংগঠনের পক্ষ থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সংগঠনের প্রতিনিধিরা জেলাশাসকের দপ্তরে গিয়ে তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে ডেপুটেশন দেন।
অবস্থান মঞ্চে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সম্পাদক রাম নিবাস বাস্কে, রবিদাস মুর্মু, জয়ন্ত মান্ডি, বাঁকুড়া কোর্টের আইনজীবী অভিষেক বিশ্বাস, বিশিষ্ট চিকিৎসক সোমরাজ মুখার্জী এবং কবি আলোক মণ্ডল। এছাড়াও সিপিআই-এর পক্ষে সঞ্জু বরাট এবং সিপিআই(এমএল)-এর জেলা সম্পাদক বাবলু ব্যানার্জী ও তিতাস গুপ্ত বক্তব্য রাখেন। সভায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন দেবল দত্ত ও শংকর ঘোষ। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি ফারহান হোসেন খান।
বক্তারা বলেন, আগস্ট মাস স্বাধীনতার আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত মাস। এই সময়ে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমজীবী ও আদিবাসী সমাজের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বক্তাদের অভিযোগ, স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসু ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো ব্যক্তিত্বদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে। নেতাজির মূর্তি ভাঙার ঘটনাতেও তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার ও বন-জমির অধিকার নিয়েও তাঁরা সরব হন।
এদিনের সভা থেকে বক্তারা রাজ্য ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে বলেন, গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ১০০ দিনের কাজকে কার্যকরভাবে চালু করতে হবে। পাশাপাশি দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের সামাজিক সুরক্ষা, কাজের অধিকার এবং অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়েও বক্তারা অভিযোগ তোলেন যে, বহু মহিলার এই ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা বলেন, মানুষের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে দল-মত নির্বিশেষে কৃষক, শ্রমিক, মহিলা, আদিবাসী, ছাত্র-যুব এবং সমাজের সমস্ত অংশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে সামিল হতে হবে।
এদিনের কর্মসূচি থেকে ১২ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।