সাধন মন্ডল, বাঁকুড়া : খাতড়া শহর ও মুকুটমণিপুরে চালিয়ে খাবারের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে একাধিক অনিয়মের হদিস পেল জেলা প্রশাসন। কোথাও ফ্রিজে রাখা মাংসের উৎস ও বিলের নথি দেখাতে পারেননি ব্যবসায়ী, কোথাও মিলেছে ফাঙ্গাস ধরা ভাজা মাছ ও ডিম। কয়েকটি রেস্তোরাঁ থেকে উদ্ধার হয়েছে খাবারে ব্যবহারের জন্য নিষিদ্ধ রাসায়নিক রং ও কৃত্রিম সুগন্ধি। মুকুটমণিপুরের কয়েকটি হোটেলে আবার ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদ শেষের তারিখহীন খাবার তৈরির সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে। কিছুদিন আগে বাঁকুড়া শহরে অভিযান চালিয়ে প্রশাসনের চক্ষু চড়ক গাছ এরপর খাতড়াতেও এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে।

সোমবার রাতে খাতড়া বাজারের প্রায় ১৫টি মিষ্টির দোকান ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের দল। একই সঙ্গে মুকুটমণিপুরের একাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁতেও পরিদর্শন করা হয়। অভিযানে ছিলেন বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) চিরন্তন প্রামাণিক, খাতড়ার মহকুমাশাসক তাপস ভট্টাচার্য, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আখতার আলী সহ জেলা খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, খাতড়ার একটি রেস্তোরাঁয় ফ্রিজে রাখা মাংসের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তার কেনার বিল দেখাতে পারেননি মালিক বলে প্রশাসনের দাবি। অন্য একটি খাবারের দোকানে ভাজা মাছ ও ডিমে ফাঙ্গাস ধরার বিষয়টি আধিকারিকদের নজরে আসে। কয়েকটি রেস্তোরাঁয় খাবারে ব্যবহারের জন্য অনুমোদনহীন রাসায়নিক রং ও এসেন্সও পাওয়া যায়। খাবারে ওই সব রং ব্যবহারের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে।
মুকুটমণিপুরের হোটেলগুলিতে অভিযান চালিয়েও উঠে এসেছে নানা অনিয়মের ছবি। কয়েকটি জায়গায় এমন খাবার তৈরির সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে, যার গায়ে ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ বা মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ উল্লেখ নেই। একটি হোটেলে পশু খাদ্যের জন্য ব্যবহৃত বেসনও পাওয়া গিয়েছে। অধিকাংশ হোটেলের রান্নাঘর ও খাবার তৈরির জায়গায় পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে। যেসব দোকান ও রেস্তোরাঁয় অনিয়ম ধরা পড়েছে, তাদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে সমস্ত ত্রুটি সংশোধন করে নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানের পর সাংবাদিকদের অতিরিক্ত জেলাশাসক চিরন্তন প্রামাণিক বলেন, কয়েকটি জায়গায় মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। রান্নাঘর এবং বিভিন্ন সরঞ্জামের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও চরম উদাসীনতা রয়েছে। এমন কিছু অনুমোদনহীন ফুড কালার ও এসেন্স ব্যবহার করা হচ্ছে, যেগুলি খাবারে ব্যবহার করা যায় না। এই সমস্ত অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট দোকানগুলিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং সাত দিনের মধ্যে তা সংশোধন করতে বলা হয়েছে। কিছু জায়গায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার অভিযান চলছে। তাদের ক্ষেত্রে অ্যাডজুডিকেশনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও রকম আপস করা হবে না। খাবারের ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে হবে। ক্রেতারাও যাতে তারা কী খাবার কিনছেন, তার গুণমান ও উপাদান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পান, তা নিশ্চিত করাই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।