মোল্লা জসিমউদ্দিন, বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবিত গুন্ডা দমন আইনকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা আপাতত খারিজ করে দিল। এদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, -'সংশ্লিষ্ট বিল এখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়নি।ফলে আইনটি কার্যকর না হওয়ায় এই মুহূর্তে সেই বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।'
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, -'রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ছাড়া আইনটি এখনও কার্যকর হয়নি। তাই সম্ভাব্য বা ভবিষ্যতের কোনও আইন নিয়ে আগাম হস্তক্ষেপ করা যায় না। সেই কারণেই জনস্বার্থ মামলাটি এই পর্যায়ে খারিজ করা হয়েছে'।তবে একই আবেদনে পশ্চিমবঙ্গ জনশৃঙ্খলা রক্ষা আইন, ১৯৭২-কে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। সেই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। মামলাকারীদের ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জবাবি হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
প্রসঙ্গত, ১৩ জুলাই থেকে রাজ্যে কার্যকর হয়েছে গুন্ডা দমন আইন। তবে গুন্ডা দমন বিল আইনসভায় পাশ হওয়ার পর রাজ্যপাল প্রথমে স্বাক্ষর করলেও, পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠান। এখনও পর্যন্ত সেই রাষ্ট্রপতির অনুমোদন মেলেনি।উল্লেখ্য , গুজরাট, উত্তর প্রদেশের পর পশ্চিমবঙ্গেও অসমাজিক কার্যকলাপ থেকে সাধারণ নাগরিকদের বাঁচাতে আনা হয়েছে কড়া আইন- গুন্ডাদমন বিল।
বিলে অসামাজিক কার্যকলাপ বলতে এমন কাজ বোঝানো হয়েছে, যা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক, ভয়, নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে। জীবন,ব্যক্তি বা সম্পত্তির বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করে। জনশৃঙ্খলা বা জনশান্তি বিঘ্নিত করে। কারও বৈধ ব্যবসা, পেশা, কাজকর্মে বাধা দেয়। কারও স্থাবর কিংবা অস্থাবর সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখল করে। সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির বড়সড় ক্ষতি করে। খনি, পাথরখাদান, বালি তোলা, বনজ দ্রব্য, বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত বেআইনি কাজ করে সরকারি অর্থের ক্ষতি ঘটায়।আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।