সৌমী মন্ডল, বাঁকুড়া: শিক্ষাক্ষেত্রে রাজ্যের বাঁকুড়া জেলার নাম উল্লেখযোগ্য। সাহিত্য সংস্কৃতি জগতেও বাঁকুড়া উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে চলেছে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহল নামে খ্যাত খাতড়া মহকুমার রাইপুর, রানীবাঁধ, সিমলাপাল ও সারেঙ্গা ব্লক। এই সারেঙ্গা ব্লকের নেতুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্ধিষ্ণু গ্রাম নেতুরপুর। এই গ্রামে ১৯৯১ সালের ১০ই মার্চ জন্মগ্রহণ করেন বর্তমানে কিশোর কবি, প্রাবন্ধিক, লোককবি, নাট্যকার লোকসংস্কৃতি গবেষক তন্ময় কুম্ভকার।
গ্রামের নেতুরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া হাতে খড়ি এবং পাঠ শেষ করে জামবনী উচ্চতর বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের পর পন্ডিত রঘুনাথ মুর্মু মহাবিদ্যালয় থেকে সাম্মানিক স্নাতক। এই মহাবিদ্যালয়ের পত্রিকায় প্রথম কবিতা প্রকাশ। তারপর থেকেই চলতে থাকে লেখালেখি ২০১৯ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ কংসাবতী কথা কয়। এরপর ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১৩ টি গ্রন্থের লেখক যার মধ্যে রয়েছে মুক্তমেঘ ,বর্ণময়, বাংলার লোকসংস্কৃতি, বাংলার লোকগান, রাঢ়বঙ্গে বৈষ্ণব ধর্ম, বাংলার কুম্ভকার কথা প্রভৃতি। বিভিন্ন সংস্থা থেকে সম্মানিত হয়েছেন বহুবার এই কিশোর কবি। তিনি নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন এর খাতড়া শাখার আজীবন সদস্য খাতড়া শাখার পক্ষ থেকেও এই কবিকে সম্মানিত করা হয়।
কবি শ্রেষ্ঠ গল্পকার শ্রেষ্ঠ প্রাবন্ধিক হিসাবে দুবার পুরস্কৃত হয়েছেন। ২০২৬সালে সম্প্রতি তিনি ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ড সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন। তার এই সম্মান প্রাপ্তিতে খুশি জঙ্গলমহল এলাকার কবি সাহিত্যিক বন্ধুরা, গ্রামবাসী বৃন্দ ও তার হাতে খড়ির বিদ্যালয় নেতুরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এর শিক্ষক-শিক্ষিকা বৃন্দ। এই প্রসঙ্গে নেতুরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বঙ্ক বিহারী পণ্ডা বলেন তন্ময় ছোটবেলা থেকেই ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত লাভ করেছিল তখনই মনে হয়েছিল বড় হয়ে আমাদের গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করবে তন্ময়ের এই সাফল্যে আমরা গর্বিত ও অত্যন্ত খুশি।
সেই সময় আমাদের বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে খুব নাম ডাক করেছিলেন শিক্ষক সাধন মন্ডল। সেই সময় আমাদের বিদ্যালয়টি খুব সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হতো। পুরো শৃংখলার দায়িত্বে ছিলেন আমার সহকারী শিক্ষক সাধন মন্ডল।সাধন বাবুই আমাকে তন্ময়ের বিষয়ে বলেছিলেন, মাস্টারমশাই তন্ময় বড় হয়ে ভালো কিছু করবে। আজ তন্ময় করে দেখাল। আমি খুশি ও আনন্দিত। তন্ময়ের আরো আরো সাফল্য কামনা করি।