সাধন মন্ডল, বাঁকুড়া: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া শেষ পর্যন্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে দুজন দুজনের উপর আঘাত হানে। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দুজনকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । কিন্তু শেষরক্ষা হল না। বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হল কবিতা সর্দার(৩৩)। গুরুতর জখম অবস্থায় চিকিৎসাধীন তার স্বামী ধনঞ্জয় সর্দার(৩৫)।
মঙ্গলবার সকালে বাঁকুড়ার খাতড়া হাই স্কুলের সামনে ওই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় । স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, বাজারের খাতড়া হাই স্কুলের সামনে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন কবিতা সর্দার। তার বাপের বাড়ি খাতড়ার গদারহার গ্রামে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল বলে দাবি কবিতার পরিবারের। সেই কারণে মেয়েকে আলাদা ভাড়া বাড়িতে রাখা হয়েছিল বলেও পরিবারের দাবি। অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে আচমকাই ওই ভাড়া বাড়িতে হাজির হন ধনঞ্জয়। সেই সময় বাড়িতে একাই ছিলেন কবিতা। এরপর দুজনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। ক্রমে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। পরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে দুজনেই একে অপরের উপর হামলা চালান বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ভাড়া বাড়ির ভিতরে কবিতাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার মাথা, হাত ও গলায় গভীর ক্ষত ছিল পাশাপাশি ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়। অন্যদিকে, ধনঞ্জয়কে বাড়ির বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তার পেট ও মাথাতেও আঘাত রয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খাতড়া থানার পুলিশ। দুজনকেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে খাতড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর দুজনকেই বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় কবিতার।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে খাতড়া হাসপাতালে পৌঁছন কবিতার বাবা-মা। তাদের দাবি, বছর দশেক আগে ছাতনার লক্ষণপুরের ধনঞ্জয়ের সাথে কবিতার বিয়ে হয়েছিল। তাদের একটি মেয়েও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। সেই কারণে মেয়েকে খাতড়ার ওই ভাড়া বাড়িতে রাখা হয়েছিল। পরিবারের দাবি, সোমবার রাতেও কবিতার সঙ্গে তারা ছিলেন। মঙ্গলবার ভোরে তারা বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরেই ধনঞ্জয় ওই ভাড়া বাড়িতে এসে ঝামেলা শুরু করেন। ঠিক কী ঘটেছিল ভাড়া বাড়ির ভিতরে তা খতিয়ে দেখছে খাতড়া থানার পুলিশ।
খাতড়ার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জানান, " বচসার থেকেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে মারামারি হয়, দুজনেই আহত হয় আহত অবস্থাতে দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে স্ত্রীর চোট বেশি থাকায় তার মৃত্যু ঘটে,অভিযোগ পেলেই পুরো ঘটনার তদন্ত হবে, ইতিমধ্যেই ঐ মহিলার স্বামীকে আমরা আটক করেছি"। অস্ত্রগুলি উদ্ধার করা হয়েছে।