রাহুল রায়,মঙ্গলকোট : নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি। তার সঙ্গে বিভিন্ন ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার ফলে বাড়ছে অজয় নদীর জলস্তর। নদীর জল বাড়তেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের মাঝখাড়া গ্রামে। বাঁধের উপর থাকা রাস্তার বেশ কিছু অংশের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ায় যাতায়াত নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে জলস্তর আরও বাড়লে বাঁধের পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, তা নিয়েও আতঙ্কে রয়েছেন বাঁধ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা।
এই পরিস্থিতির খবর পেয়ে মাঝিখাড়া গ্রামের বাঁধের রাস্তার বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে এলাকায় পৌঁছন মঙ্গলকোটের সমাজসেবী ননীচূড়া ঘোষ। বাঁধের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা শোনেন এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধের রাস্তার যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। বর্ষার মরশুমে অজয় নদীর জলস্তর বাড়লেই বাঁধের দুর্বল অংশগুলি নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়। এবারও টানা বৃষ্টি ও নদীর জল বাড়তে থাকায় সেই পুরনো আতঙ্ক ফিরে এসেছে। বাঁধের রাস্তার বিভিন্ন অংশের বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন যাতায়াত করতে গিয়েও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে মানুষকে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বাঁধটি শুধু নদীর জল থেকে এলাকার মানুষকে রক্ষা করে না, দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে বাঁধের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ায় পড়ুয়া থেকে শুরু করে কৃষক, শ্রমিক—সকলকেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জলস্তর আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
এই অবস্থায় বাঁধের দুর্বল অংশগুলি চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার ও স্থায়ী মেরামতির দাবি জানিয়েছেন মাঝিখাড়া গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, প্রতি বছর বর্ষার সময় একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাই সাময়িক মেরামতির পরিবর্তে বাঁধ ও রাস্তার স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ করা জরুরি।
এলাকাবাসীর দাবি, নতুন সরকারের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা হোক। বাঁধের রাস্তা স্বাভাবিক ও নিরাপদ হলে একদিকে যেমন মানুষের যাতায়াতের সমস্যা মিটবে, তেমনই নদীর জলস্তর বাড়লেও কিছুটা নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন বাঁধ সংলগ্ন এলাকার মানুষ।
এদিকে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ননীচূড়া ঘোষকে এলাকায় এসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে এবং বাঁধের পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে পেয়ে কিছুটা আশ্বস্ত মাঝখাড়া গ্রামের বাসিন্দারা। এখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেই অপেক্ষাতেই রয়েছেন এলাকাবাসী।