সঞ্জয় কুমার দোলুই, হুগলি : ২০২৪ সালে ৯ ই আগস্ট মহানগরী তিলোত্তমার বুকে আরজি কর মেডিকেল কলেজে পড়ুয়া মহিলা চিকিৎসক রাতে কর্মরত অবস্থায় নৃশংস খুন এবং ধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলা। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয় ভারতবর্ষের কোণায় কোণায়, আরজি কর আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং বিদেশেও তার প্রভাব পড়ে। তিলোত্তমার বিচারের দাবিতে সাধারণ মানুষ থেকে, শিল্পী, সাহিত্যিক, সমাজকর্মী, নাট্যকার, সমাজের বিশিষ্টজন, শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তিকর্মী, আইনজীবী, ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান ক্ল্যাবের কর্মী-সমর্থক, সিনিয়র চিকিৎসক, জুনিয়র চিকিৎসক, মহিলা পুরুষ দিনের পর দিন আন্দোলনে সামিল হয়েছিল।
আজ ৯ ই আগস্ট ২ বছর অতিক্রান্ত অভয়ার বিচার দাবিতে কলকাতা রাজপথে নাগরিক সমাজ, অভয়া মঞ্চ এবং জুনিয়র চিকিৎসক সংগঠন। তারা বলেন, বিচারহীন ২ বছর অতিক্রম করলো। সঞ্জয় রায় একা দোষী নয়। তারা অভয়ার বিচার চায়, আরজি করের বিচার চায়। তিলোত্তমার বিচারের দাবিতে কলকাতায় কলেজ স্কোয়ার থেকে মিছিল শুরু হয় দুপুর ২ টার সময় ধর্মতলায় গিয়ে শেষ হয়। এই মিছিলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়। যদিও নতুন করে হাইকোর্টে মামলা চলছে আরজি কর মামলার, নতুন সরকার গঠন করার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় আশ্বাস দিয়েছেন, অভয়ার দোষীদের ছাড়া হবে না। আরজিকর মামলার তদন্ত চলছে। মানুষ কিন্তু আছে, বিচারের আশায়।
প্রসঙ্গত আরজি কর মামলায় আদালত ১৮ ই জানুয়ারি সঞ্জয় রায় কে দোষী সাব্যস্ত করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'য় ৬৩ নং ধারায় (ধর্ষণ),৬৪ নং ধারায় (ধর্ষণের সময় এমন ভাবে আঘাত করা,যাতে মৃত্যু হয়), ১০৩ (১) নং ধারায় (খুন)। ২০ই জানুযারি আরজি কর মামলার সাজা ঘোষণা করেন বিচারপতি অর্নিবান দাস ৬৪ নং ধারায় , ৬৬ নং, ১০৩(১) নং ধারায় সঞ্জয় রায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করে এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। নির্যাতিতার পরিবারকে ১৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন রাষ্ট্র কে। বিচারপতি অর্নিবান দাস আরজি কর মামলা সম্পর্কে বলেন, "এই মামলা বিরলের থেকে বিরলতম নয়"।
আরজি কর মামলায় সঞ্জয় রায় কে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। সাধারণ মানুষ থেকে আইনজীবী সকলের একই প্রশ্ন সঞ্জয় রায় একা দোষী নয়। আজও বিচারের আশায় রয়েছে অভয়ার পরিবার এবং বাংলার জনতা।