সেখ রিয়াজুদ্দিন, বীরভূম : ন্যূনতম মাসিক ১৫ হাজার টাকা সম্মানিক, স্থায়ী নিয়োগসহ একাধিক দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও ডেপুটেশন দিলেন সি.এস.পি (CSP) কর্মীরা। বুধবার (২৯ জুলাই) রাজনগর ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)-এর কার্যালয় চত্বরে এআইইউটিইউসি শ্রমিক সংগঠন অনুমোদিত‘সারা বাংলা সি.এস.পি কর্মী ইউনিয়ন' রাজনগর ব্লক কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভ শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিডিও-র কাছে ১৬ দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত কম সম্মানিক, অনিশ্চিত কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে তাঁদের কাজ করতে হচ্ছে। ২০০৮ সাল থেকে তাঁরা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে মাঠপর্যায়ে কাজ করলেও ২০১৩-১৪ সালে সি.এস.পি কর্মী হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পান। কিন্তু বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে যে সম্মানিক দেওয়া হয়, তা দিয়ে সংসার চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে দাবি তাঁদের।
কর্মীদের বক্তব্য, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গ্রামে গ্রামে ঘুরে স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন, সরকারি প্রকল্পের প্রচার, মানুষের অভিযোগ শোনা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের দায়িত্ব পালন করতে হয়। অথচ তাঁদের নামে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন জমা হয় না; পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট সংঘের অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হয়। এছাড়াও এখনও পর্যন্ত তাঁদের কোনো স্থায়ী নিয়োগপত্র, সরকারি পরিচয়পত্র (আই-কার্ড) কিংবা নির্ধারিত ইউনিফর্ম দেওয়া হয়নি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে তহমিনা খাতুন, মিঠু বাগদি ও নুরেন্নেসা খাতুন জানান, সরকারের কাছে পেশ করা ১৬ দফা দাবির মধ্যে কয়েকটি প্রধান দাবি হল—
বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাসিক ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা সম্মানিক প্রদান করতে হবে। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন ম্যানুয়ালে ৪ হাজার টাকা সম্মানিক নির্ধারণের প্রস্তাব তাঁরা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ব্লকের মাধ্যমে স্থায়ী এনগেজমেন্ট লেটার, সরকারি আই-কার্ড এবং ইউনিফর্ম প্রদান করতে হবে।
৬০ বছর পর্যন্ত চাকরির নিশ্চয়তা দিতে হবে।
মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিৎসাজনিত ছুটি, উৎসব ভাতা বা বোনাস, যাতায়াত ভাতা (TA) এবং মোবাইল রিচার্জের খরচ বহন করতে হবে।
কর্মরত অবস্থায় কোনো কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা এবং পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে।
ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ জানান, সি.এস.পি কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। অথচ তাঁদের ন্যায্য প্রাপ্য ও কর্ম-নিরাপত্তা আজও নিশ্চিত হয়নি। তাই অবিলম্বে দাবিগুলি বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়া হলে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে আরও বৃহত্তর ও তীব্র আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এদিন রাজনগর বিডিও অফিস চত্বরে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়। কর্মীদের আশা, প্রশাসন তাঁদের দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।