শুভদীপ মণ্ডল, বাঁকুড়া: উত্তর বাঁকুড়ার নড়রা গ্রামের এক চিলতে বাড়িতে যেন পূর্ণিমার চাঁদ উঁকি মারছে। এই গ্রামের এই এক কামরা বাড়িতে একটি ছেলে ও একটি মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন বাদলমন্ডল ও কৃষ্ণা মন্ডল এর পরিবার। তাদের দুই সন্তান একটি ছেলে ও একটি মেয়ে ।বড়মেয়ে পিয়ালী মন্ডল নড়রা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৭০০ র মধ্যে ৫৯৮ নম্বর পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের এই মেধাবী মেয়েটির অর্থাভাবে পড়াশোনা বন্ধ হতে বসেছে এই খবর সম্প্রতি বিভিন্ন মানুষের কাছে পৌঁছায়, তেমনি পৌঁছে যায় দক্ষিণ বাঁকুড়ার রাইপুরের বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজকর্মী মণি শংকর দত্তের কাছে।
খবর পেয়েই তিনি প্রত্যন্ত এলাকার এই গ্রামে পৌঁছে যান এবং খোঁজ নিয়ে দেখেন সত্যি অভাবী ঘরের মেয়ে অর্থের অভাবে পড়াশোনা মাঝপথে থেমে যেতে পারে তাই তিনি এগিয়ে এলেন। এখানে উল্লেখ্য মেয়েটির বাবা অন্য রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন সম্প্রতি তিনি একটি দুর্ঘটনায় পায়ের অস্ত্র প্রচার হয় আর সেভাবে কাজ করতে পারেন না। একমাত্র ব্যক্তির উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে অর্থাভাব দেখা দিয়েছে। এদিকে মেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফল করে উচ্চশিক্ষার আশা নিয়ে নড়রা উচ্চ বিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছে। অর্থাভাবে মেয়ের বই খাতা কেনা সম্ভব হয়ে উঠছে না। এই খবর পেয়ে বিচলিত হয়ে পড়েন সমাজকর্মী মনিশঙ্কর দত্ত।আজ তিনি পিয়ালীদের বাড়িতে গিয়ে তার হাতে সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর নগদ পাঁচ হাজার টাকা ও দু ডজন খাতা বেশ কয়েকটি কলম তুলে দিলেন। পিয়ালী কে আশ্বস্ত করলেন। তার পড়াশোনার ক্ষেত্রে অর্থ কোন রকম ভাবে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না তিনি তার পাশে রয়েছেন ।সমস্ত রকম সহযোগিতা তিনি করবেন। তার এই উদ্যোগে খুশি নড়রা গ্রামের বাসিন্দারা ও পিয়ালীর পরিবার।
পিয়ালীর মা কৃষ্ণা মন্ডল বলেন আমি মনি শংকর বাবুর কাছে কৃতজ্ঞ।। তিনি আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে মেয়ের পড়াশোনার অনেকটা দায়িত্ব নিলেন আমি চিন্তামুক্ত হলাম। গ্রামের নড়রা উচ্চ বিদ্যালয়ে ওকে বিজ্ঞান নিয়ে ভর্তি করেছি । ওর ইচ্ছে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া এবং পরবর্তীতে ডাক্তার বা নার্সের চাকরি নিয়ে সমাজসেবা করার। সকলের সহযোগিতায় ওর স্বপ্ন সফল হোক । পিয়ালীর বাবা বাদল মন্ডল এর জমিজমা নেই বললেই চলে।আর্থিক অভাব অনটনের মাঝে অত্যন্ত জেদ নিয়ে সে মাধ্যমিক দিয়েছিল এবং সফলতা লাভ করেছে।প্রতিকূলতা তার পদে পদে।
সমাজকর্মী মণিশঙ্কর বাবু বলেন জীবনে তো অনেক কিছু করলাম অনেক ছেলেমেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছি, সেবা কার্য চলছে। বিশিষ্ট সাংবাদিক সাধন মন্ডল বাবুর কাছ থেকে এই অসহায় মেয়েটির খবর পেলাম । একটি কুঁড়ি বিকশিত হতে চাইছে অর্থাভাবে কুঁড়িটি ঝরে যেতে বসেছে তাই পাশে থাকার চেষ্টা করলাম। বিশাখার সাফল্য কামনা করি। আপনাদের সংবাদ মাধ্যমে সকলের কাছে অনুরোধ আপনারাও আসুন এই মেধাবী দরিদ্র ছাত্রীটির পাশে দাঁড়ান।