সেখ রিয়াজুদ্দিন, বীরভূম: পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে এবং ভারত সরকারের জাতীয় কর্মসূচির আওতায় জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের এইচপিভি (HPV) টিকাকরণ কর্মসূচি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। গত ১৫ জুন থেকে ১৪ বছর পূর্ণ এবং ১৫ বছরের নীচে বয়সি কিশোরীদের এই টিকা নিয়মিতভাবে ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রদান করা হচ্ছে। এবার সেই কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করতে বিদ্যালয়ভিত্তিক টিকাকরণ শিবিরেরও আয়োজন করা হয়েছে।
সোমবার খয়রাসোল ব্লকের নাকড়াকোন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ে উক্ত বয়সি ছাত্রীদের জন্য একটি এইচপিভি টিকাকরণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়। শিবিরে উপস্থিত ছিলেন নাকড়াকোন্দা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. সৈয়দ সঞ্জয় হোসেন। তিনি ছাত্রীদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করেন।
ডা. হোসেন জানান, নির্দিষ্ট এই বয়সে এইচপিভি টিকা গ্রহণ করলে জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে সর্বাধিক কার্যকারিতা পাওয়া যায়। তিনি টিকার প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্য সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, টিকা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা এবং এর নিরাপত্তা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। একইসঙ্গে অল্প বয়সে বিয়ের কুফল, কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, নিয়মিত পড়াশোনা এবং ভবিষ্যতে স্বনির্ভর হয়ে ওঠার গুরুত্ব সম্পর্কেও তিনি মূল্যবান পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা বা কিশোর-কিশোরীদের যেকোনো সমস্যা নিয়ে ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করা যেতে পারে। সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের জন্যও তিনি সকলকে আহ্বান জানান।
টিকাকরণ শিবিরে উপস্থিত অভিভাবক বিশ্বনাথ মণ্ডল, উৎপল মণ্ডলসহ অন্যান্যরা জানান, বিদ্যালয় থেকে আগেই তাঁদের চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছিল। শিবিরে এসে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছ থেকে টিকাকরণ, কিশোরীদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি, মানসিক সুস্থতা এবং সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরামর্শ পেয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট।
এদিনের শিবিরে উপস্থিত ছিলেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. সৈয়দ সঞ্জয় হোসেন, নাকড়াকোন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় দে, সিনিয়র পাবলিক হেলথ নার্স (PHN) শৌমি কর, এএনএম পম্পা ঘোষ, এক্সিকিউটিভ সুমন চ্যাটার্জি এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্যান্য কর্মী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
এই বিদ্যালয়ভিত্তিক টিকাকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে কিশোরীদের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগ আরও একধাপ এগিয়ে গেল বলে অভিভাবকদের অভিমত।