শুভ দীপ মন্ডল, বাঁকুড়া: কর্মসূত্রে নেপালে থাকা বাঁকুড়ার ইন্দপুরের মুদুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা অশোক পালের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না গত বুধবার সকালে পরিবারের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল তার বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। বুধবারে ই নেপালে নামে বিধ্বংসী হড়পা বান। আর তারপর থেকেই অশোকের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গভীর উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছে অশোকের পরিবারে। পরিবারের এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ালেন তালডাংরার বিধায়ক সৌভিক পাত্র। শুক্রবার মুদুনিয়া গ্রামে অশোক পালের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। কথা বলেন তাদের সঙ্গে এবং নিখোঁজ অশোককে দ্রুত খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সহযোগিতা ও প্রশাসনিক স্তরে যোগাযোগের আশ্বাস দেন।
বিধায়ক জানান, এই দুঃসময়ে তিনি এবং তালডাংরা বিধানসভার মানুষজন ওই পরিবারের পাশে রয়েছেন। দ্রুত অশোকের সন্ধান মিলবে এই আশাতেই এখন দিন গুনছে পরিবার। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩৮ বছরের অশোক পাল গত সাত-আট বছর ধরে নেপালের রাসুয়া জেলায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে সুপারভাইজারের কাজ করতেন। তিব্বত সীমান্তঘেঁষা রাসুয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ হড়পা বানে প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সেতুও। পরিবারের দাবি, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় ৪০ জন কর্মী কাজ করতেন। কিন্তু ভয়াবহ বন্যার পর তাদের কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
যে সেতু ভেঙে পড়ার ছবি ও ভিডিয়ো বিভিন্ন মাধ্যমে সামনে এসেছে, পরিবারের দাবি, সেই এলাকার কাছেই ছিল অশোকের কর্মস্থল। বাঁকুড়ার মুদুনিয়া গ্রামের বাড়িতে এখন বৃদ্ধ বাবা-মা-সহ পরিবারের সকলেই তাকিয়ে রয়েছেন অশোকের ফেরার পথের দিকে।