সেখ রিয়াজউদ্দিন, বীরভূম : দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো নাকড়াকোন্দা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে একটি জেনারেটর বসানো হলো। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেই জেনারেটরের উদ্বোধন করা হয়। এর ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবা সচল রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাঁচড়া গীতা ভবনের স্বামী সত্যানন্দ মহারাজ, দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা, খয়রাসোল ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক ডঃ সৌমেন্দু গাঙ্গুলি, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার সৈয়দ সঞ্জয় হোসেন-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, এতদিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলে চরম সমস্যায় পড়তে হতো হাসপাতালের রোগী, তাঁদের পরিজন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। বিশেষ করে বর্ষাকালে ঝড়-বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অন্ধকারে থাকতে হতো সকলকে। গ্রীষ্মকালে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকলে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠত। পাশাপাশি কোল্ড চেইনের আওতায় থাকা ভ্যাকসিন সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও সমস্যার আশঙ্কা থাকত।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। সেসময় ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টিও উঠে আসে। এরপর বিধায়কের উদ্যোগে স্থানীয় গঙ্গারামপুর-ভাদুলিয়া এলাকার কয়লা উত্তোলনকারী সংস্থা গোকুয়েস্ট সোলিউশন প্রাইভেট লিমিটেড (GSPL)-এর CSR ফান্ড থেকে একটি জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়।
জেনারেটর উদ্বোধনের পর স্বাভাবিকভাবেই খুশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত সকলেই। তাঁদের আশা, এবার থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও হাসপাতালের জরুরি পরিষেবা চালু রাখা সম্ভব হবে এবং দীর্ঘদিনের সমস্যা অনেকটাই মিটবে।
এদিন একান্ত সাক্ষাৎকারে বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা বলেন, “সরকার পরিবর্তন হয়েছে, এবার সমস্ত ক্ষেত্রে উন্নয়ন হবে। একটি সংস্থার CSR ফান্ড থেকে জেনারেটরটি পাওয়া গেছে। এছাড়াও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য আরও কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি সহায়তায় বাস্তবায়িত হবে।”
অন্যদিকে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার সৈয়দ সঞ্জয় হোসেন বলেন, “আমি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগ দেওয়ার পর থেকেই জেনারেটরের সমস্যা দেখে আসছি। এ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বারবার আবেদনও করেছি। বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগী থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত সকলকেই সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের পক্ষ থেকে পুরস্কার বাবদ পাওয়া অর্থ দিয়ে একটি ইনভার্টার কিনে কাজে লাগানো হয়েছিল। জেনারেটর পাওয়ায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনেকটাই স্বস্তি ফিরে এসেছে।”