সেখ রাজু, বলগনা : আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রা উদযাপিত হয় । সনাতন ধর্মের অন্যতম প্রধান উৎসব । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, বলরাম ও সুভদ্রার দ্বারকা থেকে বৃন্দাবন যাত্রার স্মরণে এই উৎসব পালিত হয় । প্রতিবছর মতন এবছরও সাড়ম্বরে ভাতারে রথযাত্রা পালিত হয় । ভাতারের মহাপ্রভু তলা থেকে রথযাত্রা শুরু হয় । এদিন হাজার হাজার দর্শনার্থীরা রথের দড়িতে টান দেন । ভাতারের বিধায়ক সৌমেন কার্ফা সহ এলাকার গুণী ব্যক্তিতরা আজকের রথযাত্রায় শামিল হল ।
বিধায়ক সৌমেন কার্ফা জানান প্রতিবছরই রথযাত্রা উৎসবকে বাংলার পূর্বের সরকার নিজেদের রথ বলে পরিচালিত করত । তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের সারম্বরে সাধারণ মানুষ উপেক্ষিত থাকত । আজ তার উল্টো ছবি । সাধারণ মানুষরা সামনে এবং বিজেপি নেতৃত্বরা পেছনে । মহাপ্রভু তলা থেকে রথযাত্রার শুরুতেই উপস্থিত ছিলেন ভাতারের ২০২১ এর বিজেপি প্রার্থী মহেন্দ্রনাথ কোনার । সমগ্র রথের এলাকা পরিদর্শন করেন এবং তিনি জানান ভাতার হলো সম্প্রীতির পিঠস্থান । রথের দড়ি টানতে যত পুন্যার্থী অংশগ্রহণ করে, তার থেকে অধিক বেশি পুন্যার্থীর সমাগম ঘটে রাস্তার ধারে । প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও রথে হাজার হাজার পুন্যার্থীর উপস্থিতি একতার ছবি ফুটিয়ে তোলে ।
সকলের সঙ্গে রথযাত্রায় পায়ে পা মেলালেন ভাতারের বিশিষ্ট সমাজসেবী অশোক হাজরা সহ এলাকার বিশিষ্ট গুনিতজ্ঞ ব্যক্তিত্বরা । প্রতিবছরেই রথযাত্রাকে সামনে রেখে ভাতারে হাজার হাজার পুন্যার্থীদের সমাগম ঘটে । পুণ্যার্থীদের যাতে কোনো রূপ অসুবিধা না হয় সেদিকে যথেষ্ট নজর দাড়ি রাখে ভাতার পুলিশ প্রশাসন এই দাবি রাখলেন সমাজসেবী অশোক হাজরা । পাশাপাশি তিনি জানান ভাতার হলো সম্প্রীতির জায়গা । বিগত সময় মানুষ একসঙ্গে যেরকম থেকে এসেছে, আগামী দিনেও সেই সম্প্রীতি অটুট থাকবে ।
অজ্ঞাত কোন কারনে ভাতারের আমারুন গ্রামে বিগত ১৫ বছর ধরে রথযাত্রার জৌলুষ হারিয়ে গেলেও এ বছরে সাড়ম্বরে রথযাত্রা পালন করল আমারুণ গ্রামের বাসিন্দারা । রথযাত্রা সমগ্র গ্রাম প্রদক্ষণ করার পাশাপাশি মানুষের আশীর্বাদ গ্রহণ করলেন রথযাত্রা কমিটির সদস্যরা । রথের দড়ি টেনে সকলের জন্য মঙ্গলকামনা করলেন বিজেপি নেতা বাপ্পা মুখার্জি পাশাপাশি তিনি জানান ভাতারের বিধায়ক সৌমেন কার্ফার দূরদৃষ্টিতে সমগ্র ভাতার নতুনভাবে প্রাণ ফিরে পেয়েছে । সেই দেখানো পথকে সামনে রেখে আগামী দিন একসঙ্গে আমরা চলব । বাবা জগন্নাথের কাছে বিধায়ক সৌমেন কার্ফার নবাগত কন্যা সন্তানের জন্য আশীর্বাদ চাইলেন ।