শুভদীপ মন্ডল,বাঁকুড়া : ষষ্ঠীর বিকেলে চিরাচরিত প্রথা মেনে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কয়েক শতাব্দী প্রাচীন রাজ পরিবারের নিয়ম মেনে নিষ্ঠা সহকারে গড় রাইপুরের হরিহর গঞ্জগড় রাজ পরিবারের মন্দির থেকে মা রাজলক্ষ্মী কে ঘোড়ার গাড়িতে চাপিয়ে শোভাযাত্রা সহকারে চাঁন্দু ডাঙ্গা গ্রামের মা মহামায়া মন্দিরে নিয়ে আসা হলো।


মন্দির থেকে খোল, করতাল, কাঁসর ঘন্টা, ঢাকের বাদ্যের মধ্য দিয়ে মাকে ঘোড়ার গাড়িতে চাপানো হয়। এরপর প্রাচীন রাজ পরিবারের রীতি অনুযায়ী তপোধ্বনির মধ্য দিয়ে মা যাত্রা শুরু করেন। হাজার হাজার ভক্ত এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

হরিহর গঞ্জগড় থেকে চাঁন্দু ডাঙ্গা গ্রামের মা মহামায়া মন্দির ৫ কিলোমিটারের বেশি পথ এই পথ অতিক্রম করতে সময় লাগে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি।। সারা রাস্তা জুড়ে মহিলারা ধুপ, দ্বীপ, শঙ্খ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন মাকে একটু দেখার জন্য ও প্রণাম করার জন্য।

রাস্তায় আলপনা আঁকা থাকে। অতীতে বাজি ফাটানোর রেওয়াজ ছিল প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বর্তমানে তা বন্ধ হয়েছে। ষষ্ঠীর রাত্রি আটটা নাগাদ মা মহামায়া মন্দিরে রাজলক্ষ্মী আগমন করেন। আগামীকাল মন্দিরের পাশে আলম শায়ারে নবপত্রিকা স্নানের মধ্য দিয়ে সপ্তমীর পুজো অনুষ্ঠিত হবে । 
কথিত আছে এই আলম শায়েরি মা মহামায়া বিষ্ণুপুরের এক শাঁখারির কাছ থেকে শিশু রূপে শাঁখা পরেছিলেন।সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত মা রাজলক্ষ্মী মহামায়া মন্দির এ যে মহামায়ার পাষান মূর্তি রয়েছে তার পাশে দুর্গা রূপে পু্জিতা হবেন । দশমীর দিন পুজো কমিটির পক্ষ থেকে নর নারায়ণ সেবার আয়োজন করা হয়েছে।

পুজো কমিটির সভাপতি গোপীনাথ সিংহ দেও সম্পাদক সুভাষ ডাঙ্গর,কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস রজক রা বলেন নরনারায়ণ সেবার পর বিকেল চারটা নাগাদ মা মন্দির থেকে বেরিয়ে আবার তার নিজ গৃহ হরিহর গঞ্জগড় রাজ পরিবারের মন্দিরে অধিষ্ঠান করবেন। বিজয়া দশমীর দিনও একইভাবে শোভাযাত্রা সহকারে হাজার হাজার ভক্তকে সাথে নিয়ে মা রওনা দেবেন।

রাইপুরের মা মহামায়ার এটাই চিরাচরিত প্রথা ও রীতি। এখানে উল্লেখ্য রাইপুরের চান্দু ডাঙ্গা গ্রামে মা মহামায়া মন্দির ১০৮ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এবং অত্যন্ত দৃশ্যনন্দন একটি মন্দির তৈরি হয়েছে। যা দেখতে হাজার হাজার দর্শনার্থী প্রতিদিন মন্দিরে আসেন ।এখানে উল্লেখ্য এই মন্দিরে নিত্য পুজো হয়।