সেখ রিয়াজুদ্দিন, বীরভূম :স্বর্গীয় টুসু বাউরীর স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে স্বাধীনতা দিবসের দিন খয়রাসোল ব্লকের তারাপুর গ্রামে স্থানীয় গ্রামবাসীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল এক দিবসীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা। খেলাকে ঘিরে গ্রামজুড়ে উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
এই প্রতিযোগিতায় বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান ও ঝাড়খণ্ডের মোট আটটি দল অংশগ্রহণ করে। দিনভর বিভিন্ন পর্যায়ের খেলার পর ফাইনালে মুখোমুখি হয় পশ্চিম বর্ধমান জেলার রামনগর ফুটবল দল ও শিবপুর ফুটবল দল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের শেষে ১-০ গোলে শিবপুরকে পরাজিত করে রামনগর ফুটবল দল চ্যাম্পিয়ন হয়।
খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজিত উভয় দলের হাতে সুদৃশ্য ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ম্যান অব দ্য ম্যাচ, সেরা খেলোয়াড়-সহ বিভিন্ন বিভাগে কৃতী খেলোয়াড়দের পুরস্কৃত করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বর্গীয় টুসু বাউরীর বাবা জীবন বাউরি, শিক্ষক বাপী চক্রবর্তী, সমাজসেবী সুকুমার নন্দী, নৃপেন্দ্রনাথ সাহা, কার্তিক গোপ, অশোক ঘোষ, অক্ষয় বাউরি-সহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও গ্রামবাসীরা।
মেয়ের স্মৃতি আঁকড়ে বাবার আবেগঘন বক্তব্যে ফুটে ওঠে যে,স্বর্গীয় টুসু বাউরীর বাবা জীবন বাউরি একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। অনুষ্ঠানে মেয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অশ্রুসজল চোখে তিনি বলেন, পাঁচ বছর সাত মাস বয়সেই মেয়েকে হারাতে হয়েছে। মাত্র তিন দিনের জ্বরের উপসর্গ নিয়ে তাকে সিউড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসার পর জানা যায়, তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গিয়েছে। পরে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই টুসুর জীবনাবসান ঘটে।

মেয়েকে হারানোর সেই গভীর বেদনা আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন বাবা জীবন বাউরি। তিনি বলেন, “মেয়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে কিছু করতে চেয়েছিলাম। বিষয়টি নিয়ে গ্রামের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করি। তখনই ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তাব আসে। সেই ভাবনা থেকেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন।”
গ্রামবাসীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই ফুটবল প্রতিযোগিতা শুধু একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রয়াত টুসু বাউরীর স্মৃতিকে ধরে রাখার পাশাপাশি এলাকার যুবসমাজকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করারও একটি উদ্যোগ বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।