সেখ রিয়াজুদ্দিন, পাথরচাপুড়ি : মানুষের সেবাই পরম ধর্ম—এই বার্তাকে সামনে রেখে পাথরচাপুড়ির হজরত দাতা মাহবুব শাহ ওয়ালি (রহ.) মাজার শরিফ প্রাঙ্গণে পুনরায় চালু হল দাতব্য চিকিৎসালয়। রবিবার, ১১ অক্টোবর, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী খুদিরাম টুডু আনুষ্ঠানিকভাবে এই চিকিৎসালয়ের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন,
সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা দপ্তরের প্রধান সচিব ডঃ পি বি সেলিম, অতিরিক্ত জেলা শাসক (সংখ্যালঘু) শামস তাবরেজ আনসারী, সদর মহকুমা শাসক দেবদুলাল বিশ্বাস,আল আমিন মিশনের কর্ণধার নুরুল ইসলাম-সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সিউড়ি-১ নম্বর ব্লকের পাথরচাপুড়ি গ্রামে অবস্থিত এই মাজার শরিফে দীর্ঘদিন ধরে দাতব্য চিকিৎসালয়টি বন্ধ ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও মাজার কমিটির পক্ষ থেকে চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেন মন্ত্রী।
জানা গিয়েছে, আল-আমিন মিশন থেকে চিকিৎসক হয়ে জেলায় কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্য থেকে কয়েকজন রুটিন মাফিক আপাতত সপ্তাহে এক দিন করে এখানে রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করবেন। এর ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
এদিনের অনুষ্ঠানে চিকিৎসা পরিষেবা চালুর পাশাপাশি একাধিক জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করেন মন্ত্রী। আসন্ন দুর্গোৎসব উপলক্ষে পাঁচ শতাধিক মানুষের হাতে বস্ত্র উপহার তুলে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, প্রতিবছর ঈদ ও দুর্গাপুজো উপলক্ষে মাজার শরিফের পক্ষ থেকে বস্ত্র বিতরণ করা হয়ে থাকে।
পাথরচাপুড়ি গ্রামের পানীয় জলের সমস্যা সমাধানের জন্য মন্ত্রী জনস্বাস্থ্য কারিগরি (পিএইচই) দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানান। পাশাপাশি, পূর্বে পানীয় জল সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ বিল বাবদ বকেয়া থাকা প্রায় ৯ লক্ষ টাকা নিজের তহবিল থেকে দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
এ ছাড়াও মাজার কমিটির হাতে একটি অ্যাম্বুল্যান্স তুলে দেওয়ার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। পাশাপাশি এলাকার রাস্তা পিচ দিয়ে নির্মাণ, গেস্ট হাউস তৈরি এবং শৌচালয় নির্মাণের মতো একাধিক উন্নয়নমূলক কাজের কথাও ঘোষণা করা হয়। এই উদ্যোগগুলি বাস্তবায়িত হলে মাজারে আগত ভক্ত-অনুরাগীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা হজরত দাতা মাহবুব শাহ ওয়ালির জীবন ও আদর্শের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মানবসেবার দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এক ভক্তের ধর্ম সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে দাতা বাবার বলা একটি বাণীও উল্লেখ করা হয়—“মানুষের সেবাই হচ্ছে পরম ধর্ম।” মানুষের সেবার মধ্য দিয়েই আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব।
তাঁরা আরও জানান, পাথরচাপুড়ির এই মাজার শরিফে শুধু রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয়, রাজ্যের বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকেও বহু ভক্ত ও অনুরাগী আসেন। শান্তি কামনা এবং আধ্যাত্মিক প্রশান্তির আশায় প্রতিবছর বহু মানুষ এই পবিত্র স্থানে সমবেত হন।
দাতব্য চিকিৎসালয় পুনরায় চালু হওয়া এবং এলাকার উন্নয়নে একাধিক ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এদিনের অনুষ্ঠান বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনকল্যাণমূলক কাজের মধ্য দিয়ে দাতা বাবার মানবসেবার আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তাই উঠে আসে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে।