*সেখ রিয়াজউদ্দিন, খয়রাশোল: দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে উৎসবের আনন্দ সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবং দুঃস্থ পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে চলছে বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি। সেই ধারাবাহিকতায় বীরভূম জেলার খয়রাশোল ব্লকের নওপাড়া গ্রামের ৫৯ নম্বর বুথে জেলা বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার উদ্যোগে এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রথমেই ভারতের মিশাইল ম্যান ডঃ এপিজে আবদুল কালাম এর জন্মদিন উপলক্ষে উনার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।অনুষ্ঠানে এলাকার দুঃস্থ পরিবারের হাতে বস্ত্র তুলে দেওয়ার পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা জানানো হয়।
পড়ুয়াদের শিক্ষাক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের বার্তাও তুলে ধরেন উপস্থিত অতিথিরা। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসবকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করলে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে এলাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার বিষয়ও অতিথিদের সামনে তুলে ধরা হয়। তাঁদের দাবি, গ্রামের আহম্মেদিয়া মাদ্রাসাকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।
গ্রামবাসীদের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অতিথিরা শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে জেলার ভূমিপুত্র তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার আশ্বাস দেন বলে জানা যায়।
এছাড়াও এলাকার কৃষি উন্নয়নের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। কৃষিকাজের সুবিধার্থে মৌজাভিত্তিক জমির সমীক্ষা করে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার কথা জানানো হয়। এলাকার কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়নে সাবমার্সিবল পাম্পের ব্যবস্থা করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এলাকার শিক্ষার মানোন্নয়নে ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গাপুজোর মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে বস্ত্র বিতরণ এবং কৃতী পড়ুয়াদের সংবর্ধনা সেই সামাজিক দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন।
এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ, বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য সুকুমার নন্দী,জেলা সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি মোতাহার খান, সহ-সভাপতি টিকলু খান, খয়রাশোল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য প্রদীপ রুইদাস, শিক্ষক বুদ্ধদেব চক্রবর্তী, সমাজসেবী আব্দুর রউফ-সহ এলাকার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
অনুষ্ঠান শেষে পৃথক সাক্ষাৎকারে কর্মসূচির উদ্দেশ্য, এলাকার উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ দেন আব্দুল লতিফ ও টিকলু খান।