মোল্লা জসিমউদ্দিন, আইএসএফ-দলের প্রতীক খাম। এই প্রতীকেই দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট । তবে আসন্ন অক্টোবর মাসে যে উপনির্বাচন রয়েছে, তাতে সেই প্রতীক হাতছাড়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন প্রতীকটি তুলে দিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’-র হাতে।আর নওশাদদের দেওয়া হয়েছে আলমারি। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গেল বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি।
আইএসএফের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, -'কমিশন চাইলে উপনির্বাচনের জন্য ‘খাম’ প্রতীকটি ফ্রিজ করে রাখতে পারত। তাতে ভোটারদের বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকত না'। অন্যদিকে কমিশনের আইনজীবী অনামিকা পাণ্ডে জানান, -'২০২১ ও ২০২৪ সালে আইএসএফ ‘খাম’ প্রতীকটি ফ্রি সিম্বল হিসেবে ব্যবহার করেছিল'। এই বক্তব্যের পরই বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, -'উপনির্বাচনে কেন প্রতীকটি ফ্রিজ করা হল না'। মাত্র কয়েক মাস আগে একটি দল যে প্রতীক ব্যবহার করেছে, তা অন্য দলকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
কমিশনের নিরপেক্ষভাবে কাজ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি।এরপরই নিজেদের প্রতীক ফেরত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। আদালতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চে ছিল সেই মামলার শুনানি। হাইকোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন।এদিন আইএসএফ-এর হয়ে হাইকোর্টে সওয়াল করেছেন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি কোর্টে সওয়াল করেন, “কমিশন সব দলের জন্যই খাম চিহ্ন ফ্রিজ করতে পারত। এতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হত না।”
উল্টোদিকে কমিশনের আইনজীবী অনামিকা পান্ডে বলেন, “২০২১ ও ২০২৪ সালে তারা ফ্রি সিম্বল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এটা তাদের চয়েস।”তখনই বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের প্রশ্ন, “আপনারা সব সময় এমন ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্ত কেন নেন? বিচারব্যবস্থাকে চিমটি কাটার জন্যই কি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেন? ১৮৩ টি চিহ্ন আছে। যেই নির্বাচন শুরু হয় আপনারা সিদ্ধান্ত নেন আর সব রাজনৈতিক দলগুলি আদালতে চলে আসে।” একই সঙ্গে বিচারপতির প্রশ্ন, “উপনির্বাচনে কেন আপনারা এটা ফ্রিজ রাখলেন না অন্য দলের মতো? কমিশনের উচিৎ নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করা। মাত্র চার মাস আগে যে প্রতীক একটি দল ব্যবহার করেছিল, সেটা বদলে গেল? এখন রুল আইন দেখাচ্ছেন?”
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্যকে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, তাঁরা কেন ‘খাম’ প্রতীক চেয়েছিলেন। উত্তরে তিনি জানান, তাঁদের পক্ষ থেকে তিনটি প্রতীক চাওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের প্রতীক ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছিল। শেষে ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে কেন কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি? তা আজ অর্থাৎ শুক্রবার আদালতকে জানাতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আজ ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে।